‘জেলের ভিতর আসামীরা কীভাবে ফোন ব্যবহার হচ্ছে?’ প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করলেন শুভেন্দু

CM Suvendu Adhikari

আজকাল ওয়েবডেস্ক: জেলের ভিতর থেকে ফোন ব্যবহার নিজেদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রেখেছে আসামীরা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে ’ প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন তিনি অভিযোগ করেন, সন্দেশখালি কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত শাহজাহানও জেলের ভিতর ফোন ব্যবহার করে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিল। এমনকী, প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে ‘ঢিলেমি’-র অভিযোগও এনেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্সি জেলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে পুলিশি তল্লাশিতে প্রচুর ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’ তবে জেলে বসে মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগে শুক্রবার প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার ও চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

তবে এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতেই সিআইডি-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইলগুলি থেকে উদ্ধার হওয়া সিম কার্ডগুলি কার নামে নথিভুক্ত, তা বিশদে তদন্ত করবে সিআইডি।

তবে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বাইরে থেকে যাঁরা জেলের ভিতর বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, আরজিকরের ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশের এই তিন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের কী ভূমিকা ছিল, আদৌ তাঁরা পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি জানান, আরজিকরের ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তার পরের কিছু বিষয় নিয়ে তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানতে সম্প্রতি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে গত কয়েকদিন ধরে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের কাজ করা হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা একটা সিদ্ধান্তে এসেছি। ওই সময়ে যে ঘটনা ঘটেছিল সেটাকে বিপথে পরিচালিত করা, সঠিক ভাবে এফআইআরের পর তদন্ত না করা। যেটা পুলিশের করা উচিত ছিল। আমরা মূল তদন্তের দিকে যাচ্ছি না। কারণ, ওটা সিবিআই করছে, আদালতে মামলা বিচারাধীন।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা শুধুমাত্র আমাদের সরকারের যে লোকরা ছিল বিশেষ করে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন সিপি সহ যারা সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করব। সবচেয়ে বড় অভিযোগ যেটা, আমাদের কাছে সংবাদমাধ্যম মারফত নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ এসেছে যে দু'জন পুলিশ অফিসার রাজ্য সরকারের তরফে টাকা দিতে চেয়েছিলেন অভয়ার পরিবারকে।'

শুভেন্দু আরও বলেন, 'আর সংবাদমাধ্যমের সামনে একজন ডিসির ব্যবহার এবং ভাষা এটা আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে খুব একটা সুখকর ছিল না। ওনাকে আরজিকর ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার জন্য কেউ লিখিত অনুমতি দেয়নি। আমরা তিনজন আইপিএসকে সাসপেন্ড করছি। বিনীত গোয়েল(বর্তমান এডিজি আইবি), ইন্দিরা মুখার্জি এবং অভিষেক গুপ্তা। এই তিনজনকে আমরা সাসপেন্ড করলাম।'