আজকাল ওয়েবডেস্ক: একের পর এক। ফের ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্থা এবং আক্রমণের অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশে আক্রান্ত হয়েছেন মালদহের যুবক।

মালদহের কালিয়াচকের পাহাড়পুরের বাসিন্দা সৈয়দ শেখ, বয়স ৩৭।  একজন পরিযায়ী শ্রমিক। মধ্যপ্রদেশে কাপড়ের কারখানায় কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। তথ্য, ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। সূত্রের খবর, বর্তমানে তিনি মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন। ঘটনার খবর পেয়েই সৈয়দের পাশে দাঁড়িয়েছে শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্ব। প্রতিবেদন লেখার  সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। 

 

এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি সমানে আসে, ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা। পুরুলিয়ার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম, প্রসন্ন কুমার (৩৯)। তিনি ঝালদা দু’নম্বর ব্লকের চেক্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের চেক্যাতের বাসিন্দা ছিলেন। 

 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বেঙ্গালুরুতে কাজে গিয়েছিলেন তিনি।  এরপর আর বাড়িতে ফেরার সুযোগ হয়নি তাঁর। অভিযোগ ছিল, ঠিকাদার সংস্থা আটকে রেখেছিল তাঁকে। অতীতে তিন থেকে চারবার লুকিয়ে কর্মস্থল থেকে স্টেশনে পালিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তারপরেও ওই ঠিকাদার সংস্থা তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পরিবার আরও জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শেষবার ফোন করেছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে ঘুমের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করা হয়েছে। তাঁর মাথা, ডান হাতের আঙুল, নাকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর সাম্পিগেহাল্লি থানা এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ড্রাইভারের কাজ করতেন প্রসন্ন। স্ত্রী এবং দুই ছেলে রয়েছে তাঁর। ঠিক মতো বেতন দেওয়া হত না বলেও অভিযোগ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। 

চলতি মাসের শুরুতেই এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল মুম্বইয়ে। ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক পরিণতি। উত্তর ২৪ পরগনা বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার বালতি নিত্যানন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বালতি মাঝের পাড়ার ঘটনা। গত সাত বছর আগে আলফাজ মণ্ডল পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে কাজ করতে গিয়েছিলেন ভিন রাজ্যে।  ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্থা নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল। মমতা ব্যানার্জি থেকে অভিষেক ব্যানার্জি, এই ঘটনার প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছেন ক্রমাগত।