ইন্দ্রজিৎ সাহু: গুজবের জেরে গণপিটুনিতে মৃত্যু হল এক তরুণ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের। মৃতের নাম সৌম্যদীপ চন্দ (৩৩)। পরিবারের একমাত্র সন্তান সৌম্যদীপ। 

 

১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর শুক্রবার রাতে ওড়িশার ভুবনেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে পরিবার ও গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেশিয়াড়ি থানার খাজরা পঞ্চায়েতের গিলাগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সৌম্যদীপ গত ৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি নারায়ণগড় থানার রামপুর এলাকায় একটি বেসরকারি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। 

 

অভিযোগ, খড়গপুর গ্রামীণ থানার ভেটিয়া পঞ্চায়েতের আনারকলি এলাকায় কেশিয়াড়ি-খড়গপুর রাজ্য সড়কে কিছু মানুষ গুজবের ভিত্তিতে তাঁর পথ আটকায়। চোর সন্দেহে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। কর্মস্থলের আইকার্ড দেখিয়ে কাজে যাওয়ার কথা জানালেও উত্তেজিত জনতা তাঁর কথা শোনেনি। মারধরের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। 

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ভুবনেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

খড়গপুর গ্রামীণ থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হবে। তবে ঘটনার ১২ দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। 

 

অন্যদিকে, গুজবের জেরে পিংলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে গণধোলাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ন’টা নাগাদ পিংলা থানার কুসুমদা অঞ্চলের সাহারা ও তেগ্যেড়িয়া এলাকায় এক অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত স্থানীয়রা তাঁকে গাছে বেঁধে মারধর করে বলে অভিযোগ। পিংলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।