ভারতের প্রস্তাবিত আয়কর আইন ২০২৬ কার্যকর হতে চলেছে আগামী ১ এপ্রিল থেকে। খসড়া নথিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে, বিশেষ করে বিভিন্ন আয়কর ফর্মের নম্বর বদলের বিষয়ে।
2
11
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল কাঠামো ও রিপোর্টিং ফরম্যাট অপরিবর্তিত থাকলেও ফর্মগুলির নম্বর নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে।
3
11
আয়কর আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা জানিয়েছেন, ফর্মগুলির নম্বর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
4
11
বর্তমানে ব্যবহৃত ফর্ম ১৬ (বেতনের উপর টিডিএস সার্টিফিকেট) নতুন আইনে ফর্ম ১৩০ নামে পরিচিত হবে। একইভাবে, ফর্ম ২৬এএস (এআইএস বা অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট) বদলে হবে ফর্ম ১৬৮।
5
11
তবে এবিষয়ে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন এখনও জারি হয়নি। রিপোর্টিং ফরম্যাটে কোনও মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ, ফর্মের বিষয়বস্তু বা তথ্য দেওয়ার ধরণ প্রায় আগের মতোই থাকবে, শুধু নম্বর বদলানো হচ্ছে।
6
11
ফর্ম ১৩, ১৬, ১৬এ, ২৪কিউ, ২৬কিউ, ২৭কিউ এবং ২৬এএস—সবগুলিরই নাম পরিবর্তন হবে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে, যখন নতুন আয়কর আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এছাড়া বর্তমানে ব্যবহৃত ফর্ম ৩সিএ, ৩সিবি এবং ৩সিডি একত্রিত করে একক ফর্ম ২৬ চালু করার প্রস্তাব রয়েছে।
7
11
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ এবং তার পরবর্তী সমস্ত কমপ্লায়েন্স ও যোগাযোগ নতুন নম্বরযুক্ত ফর্মের অধীনেই সম্পন্ন হতে পারে। তবে বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে আয়কর পোর্টালের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, সংশ্লিষ্ট ইউটিলিটি আপডেট এবং আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির উপর।
8
11
সরকার সম্ভাব্য বিভ্রান্তি এড়াতে একটি ‘প্যারালাল’ বা সমান্তরাল ট্রানজিশন পিরিয়ড রাখতে পারে। কারণ বহু বছর ধরে করদাতারা পুরনো ফর্ম নম্বরের সঙ্গে অভ্যস্ত।
9
11
ফলে হঠাৎ পরিবর্তনে স্বল্পমেয়াদি কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত প্রচার, স্পষ্ট নির্দেশিকা এবং সহায়ক ব্যবস্থা থাকলে এই প্রভাব সাময়িকই হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
10
11
বর্তমানে Central Board of Direct Taxes (CBDT) খসড়া আইনের উপর মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া আহ্বান করেছে। আশা করা হচ্ছে, সংসদ ১ এপ্রিলের মধ্যেই আইনটি পাস করবে। সংশোধিত ফর্মগুলির প্রয়োগ ও প্রযোজ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সিবিডিটি শীঘ্রই বিস্তারিত FAQ প্রকাশ করতে পারে।
11
11
সব মিলিয়ে, আয়কর ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন কাঠামোগত সরলীকরণের অংশ হলেও করদাতাদের জন্য মূল প্রক্রিয়ায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করা হচ্ছে।