আজকাল ওয়েবডেস্ক: একে একে, বেসুরো হচ্ছেন সঙ্গীরা। বেসুরো হচ্ছেন নীচুতলার কর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো যত চেষ্টা করছেন, নিজের দল গুছিয়ে নিতে, ততই যেন তাসের ঘরের মতো ভাঙছে দিনে দিনে। একদিকে কাউন্সিলররা দল বেঁধে ইস্তফা দিচ্ছেন। অন্যদিকে বেসুরো দলের উঁচু পদের নেতারাও। এই মুহূর্তে যখন দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে বারাসতের সাংসদকে নিয়ে, ঠিক সেই সময়েই জল্পনা উসকে দিলেন আরও এক সাংসদ।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এক পোস্টেই জল্পনা তীব্র। তিনি বলেছিলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছেন।' সুখেন্দু শেখর লিখেছেন, 'খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ অব্দে, মার্চের আইডেস-এ রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারকে সিনেটে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল। রোমান বর্ষপঞ্জি অনুসারে, আইডেস সাধারণত মার্চ, মে, জুলাই এবং অক্টোবরের ১৫ তারিখকে বোঝাত। কিন্তু মে মাসের আইডেসের আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে।'
অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, পদত্যাগের পর মঙ্গল সকালে জল্পনা বাড়িয়েছেন, তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মঙ্গলবার সকালে তিনি কল্যাণীতে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে হাজির হন। জল্পনা ছড়ায় তৎক্ষণাৎ, তাহলে কি আজই ফুলবদল?
যদিও এই প্রশ্নের উত্তরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাফ জানিয়েছিলেন, তাঁর কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার সঙ্গে কোনও দলীয় যোগাযোগ নেই আদতে। এটি নেহাতই প্রশাসনিক কর্মসূচি এবং সেই কারণেই তিনি উপস্থিত হয়েছেন একজন সাংসদ হিসেবে।
মূলত, এদিন কল্যাণীতে তিন জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তালিকায়-নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা। এই তিন জেলার পর্যালোচনায় প্রশাসনিক বৈঠক। সাংসদ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার উপস্থিত হন সেই হিসেবেই, দাবি তেমনটাই।
যদিও গত কয়েকদিন ধরেই, কাকলির একাধিক পদক্ষেপ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট জল্পনা বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। মমতা ব্যানার্জি তাঁকে লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরনো দিনে পাশে থাকার স্মৃতি উসকে দিয়েছিলেন। তারপরেই, বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে রইস্তফাও দিয়েছেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিলই, রবিবার সেই জল্পনা বাড় একয়েকগুণ। মধ্যমগ্রামে দলের জেলা কার্যালয়ে এক আকস্মিক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজের ইস্তফাপত্র প্রকাশ্যে আনেন।
















