আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় ৩০ জুলাই পর্যন্ত অভিষেক ব্যানার্জিকে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে আপাতত আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যেতে পারবেন না অভিষেক এমনটাই জানানো হয়েছে।
গত ২৭ এপ্রিল আরামবাগে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অভিষেক বলেছিলেন, 'আমি উদার নই। ৪ তারিখ দেখব দিল্লির কোন বাবা বাঁচায়।' ফল ঘোষণার পর অভিষেকের এই মন্তব্য উস্কানিমূলক এই মর্মে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায়।
এদিন সেই মামলার শুনানি ছিল হাইকোর্টে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন অভিষেকের বক্তব্য ছিল 'দায়িত্বজ্ঞানহীন'। তবে আপাতত ৩০ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ পাচ্ছেন অভিষেক।
বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হবে আদালতের। পাশাপাশি, আদালতের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, অভিষেক যেন সশরীরে হাজিরা দিয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেন।
পাশাপাশি, তৃণমূল সাংসদকে তলবের ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে। তবে হাইকোর্ট অভিষেকের ভার্চুয়ালি হাজিরার ক্ষেত্রে অনুমতি দেয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ জুলাই।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং ডিজে বাজানো সংক্রান্ত মন্তব্যের অভিযোগে অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। জানা গিয়েছিল, এই এফআইআর-এ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরের দিন অর্থাৎ ৫ মে বাগুইআটির থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান রাজীব কুমার নামক ওই ব্যক্তি।
নির্বাচন চলাকালীন উস্কানিমূলক বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে, পাঁচটি ধারায় এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।
এফআইআর অনুযায়ী, রাজীবের অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও নির্বাচনী প্রচারের সময় উস্কানিমূলক, ভয়প্রদর্শনকারী এবং উত্তেজক ভাষণ দেন। যা নাকি হিংসা উসকে দেয়, শত্রুতা বৃদ্ধি করে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে, এই ধরনের বক্তব্য ‘Abhishek Banerjee Official’ নামের ফেসবুক পেজ-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়। অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চ-এপ্রিল ২০২৬ সময়কালে মহেশতলা, আরামবাগ, হরিণঘাটা এবং নন্দীগ্রামের সভাগুলিতে দেওয়া ভাষণ, যেখানে অভিযুক্ত নাকি বিরোধী দলের কর্মীদের হুমকি দেন এবং এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন যা জনঅশান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৯২/১৯৬/৩৫১(২)/৩৫৩(১)(সি) ধারায় এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ধারা ১২৩(২) ও ১২৫-এ মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য ধারা।
















