আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ডাক বিভাগের একটি পার্সেল গাড়ি করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাচার করতে গিয়ে সোমবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার পুলিশের হাতে বিপুল পরিমাণ গাঁজা সহ গ্রেপ্তার হল দুই ব্যক্তি।
ধৃতদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে উন্নতমানের প্রায় ৬৭ কেজি গাঁজা। পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর-পূর্ব ভারতের কোনও একটি রাজ্য থেকে এই গাঁজা নিয়ে আসা হয়েছিল এবং রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় তা পাচার করার চেষ্টা হচ্ছিল।
গাঁজা পাচারের অভিযোগে পুলিশ উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ সরকার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এলাকার বাসিন্দা অধীর মণ্ডল নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত ব্যক্তিরা কোথা থেকে এত পরিমাণ গাঁজা পেয়েছিল এবং কাদের হাতে তা তুলে দিতে যাচ্ছিল তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই গাঁজা কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
সাগরদিঘি থানার এক আধিকারিক জানান, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সাগরদিঘি থানার বিভিন্ন গ্রাম এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে রোজ নিয়মিত নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সোমবার রাতে মোড়গ্রামের কাছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে নাকা তল্লাশি চলার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের ডাক বিভাগের অধীনস্থ একটি পার্সেলবাহী গাড়ি পুলিশ আটকায়। গাড়ির ড্রাইভারের কেবিনে তল্লাশি চালাতেই কয়েকটি বস্তার মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ গাঁজা।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, নাকা তল্লাশির সময় যাতে পুলিশের কোনও সন্দেহ না হয় সেই কারণে বস্তাগুলোর গায়ে সরকারি সিল এবং অন্যান্য সরকারি ট্যাগ লাগানো ছিল। এক নজরে দেখলে অনেকেরই মনে হতে পারে ওই বস্তাগুলো করে ডাক বিভাগের কোনও চিঠি বা অন্যান্য পার্সেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
যদিও আগে থেকেই প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাগরদিঘি থানার পুলিশ গাড়িটিতে ভাল করে তল্লাশি চালাতেই বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হয়। পুলিশের অনুমান, সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব ভারতের কোনও একটি রাজ্য থেকে কোচবিহার এলাকায় কয়েকজন মাদক পাচারকারী বিপুল পরিমাণ গাঁজা নিয়ে আসে। এরপর সেই গাঁজা কলকাতায় পাচার করার চেষ্টা হচ্ছিল।
নাম না প্রকাশের শর্তে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান , রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই বেআইনি মাদক পাচারকারী এবং মদ পাচারকারীরা ফের একবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিত্য নতুন বিভিন্ন পন্থা ব্যবহার করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক পাচার করার চেষ্টা করছে।
পুলিশের ওই আধিকারিক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের কোনও জায়গাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের ডাক বিভাগের গাড়ি ব্যবহার করে মাদক পাচার করার ঘটনা নজরে আসেনি। সেই কারণে নির্বাচনের সময় পুলিশের নাকা তল্লাশি এড়ানোর জন্য কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই দুই ব্যক্তি ডাক বিভাগের পার্সেল গাড়ি ব্যবহার করে মাদক পাচার করছিল বলে জানা গিয়েছে।
মাদক পাচারের এই ঘটনা সঙ্গে ডাকবিভাগের কোনও কর্মী জড়িয়ে রয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। এর পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া গাড়ির মধ্যে কিভাবে সরকারি সিল, ছাপ এবং অন্যান্য নথি এল পুলিশ তাও তদন্ত করে দেখছে।
