অয়ন ভট্টাচার্য 


“আলমা আটা” মানে আপেলের পিতৃভূমি। সহজ উচ্চারণ আলমাটি। আসলে এই উপত্যকা আদিম আপেলের জন্মস্থান। ওরা বিশ্বাস করে কাজাখস্তানের এই অংশেই মানুষ নাকি প্রথম আপেল চিনতে আর খেতে শিখেছিল। মানুষ প্রথম আপেল চাষ করেছিল আলমাটিতে। তামাম দুনিয়া জুড়ে আপেলের এখন কত রমরমা। আমাদের হিমাচল আর কাশ্মীর এমনকি উত্তরাখণ্ড আপেল চাষে অনেক এগিয়ে গেলেও আলমাটি থেকেই আসলে আপেলের যাত্রা শুরু।

আলমাটি শহরটা খুবই সুন্দর। রাজধানী আস্থানার থেকেও পুরনো শহর। অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম পুরনো গুরুত্বপুর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। সৌন্দর্যেও কম নয় আলমাটি। শহর ঘিরে আছে বরফে ঢাকা আলাটাও পর্বতমালা। উপত্যকা শহরটা বেশ আধুনিক। সোভিয়েত আমলের বাড়ির সঙ্গে আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট মিলিয়ে মিশিয়ে সুন্দর ভাবে গড়ে উঠেছে। চমৎকার রাস্তা ঘাট, ফুলে ফুলে ভরে আছে সারা শহর। অসাধারণ সব বাগান। সব থেকে বেশী চোখে পড়ছে টিউলিপ। রাস্তার ডিভাইডার গুলোতে প্রচুর টিউলিপ, মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে টিউলিপের শহর বলে আলমাটিকে ডাকাই যায় এই সময়ে। 

বিশাল দেশ কাজাখস্থান। সোভিয়েত আমলে অনেকগুলো শহরকে আধুনিক পরিকাঠামো দিয়ে সাজিয়ে তুলেছিল রাশিয়ানরা। উন্নত রেল পরিষেবা, শহরজোড়া মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক, মহাকাশ বিজ্ঞান, যুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র, পরমাণু অস্ত্র তৈরীর কান্ড কারখানা.. সবই ছিল কাজাখস্থানে। তবে এখন সেইসব চুকেবুকে গেছে। সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্র মুক্ত দেশ। ইসলাম ধর্মের মানুষ সংখ্যায় বেশি থাকলেও, ক্রিশ্চান,বৌদ্ধ আর যাযাবরদের নিজস্ব কিছু প্রাচীন ধর্মাচরণ নিয়ে মিলেমিশে আছে সবাই। ভারতের মতোই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ কাজাখস্থান। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে কাজাখস্তান স্বাধীন রাষ্ট্র হয়েছিল ১৯৯১ সালে। মধ্য এশিয়ার এইসব দেশগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনাচরণ সব আলাদা। অন্য অনেক কারণের সঙ্গে এক জাতি, এক রাষ্ট্র, এক ভাষা এই নীতি চাপানোর ফলেও সোভিয়েত ভেঙ্গেছিল এই তত্ত্ব অনেকে বলেন। কিছুটা সত্যি তো বটেই। এইখানে এসে দেখছি রাশিয়ান ভাষার থেকে কাজাখ ভাষা বলতে লোকে বেশী পছন্দ করেন। ইংরেজি প্রায় কেউ জানেও না, বলতেও পারে না। ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক এই দেশের। এখন ভিসাও লাগে না টুরিস্টদের ১৪ দিনের জন্য। 

আমাদের কয়েকদিনের সঙ্গী নুরকেলদি ইস্তান বেতফ, এক বর্ণ ইংরেজি জানেনা। কাজাখস্তান পর্যটন বিভাগের হয়ে কাজ করছে নুরকেলদি। গবেষক, শিক্ষক, পর্বতারোহণ শেখানো আর অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম নিয়ে নুরকেলদির দক্ষতা। সুন্দর সুঠাম চেহারা, খুব নম্র স্বভাব। আমাদের হোস্ট বলেছিল, “ইংরেজি না জানা কেউ হলে অসুবিধা হবে তোমার?” প্রথমে একটু ইতস্তত করেছিলাম। এয়ারপোর্টে যে এসেছিল ইংরেজি জানা তার নাম নূরজাহান। নাহ্ নাম যাই হোক , আসলে সে পুরুষ। তার ইংরেজী জ্ঞান দেখে তখনই ঠিক করলাম এই যুগের পৃথিবীতে ভাষা নিয়ে অহেতুক আর কীসের ভয়! গুগল ট্রান্সলেট হ্যায় না! 

সেই ট্রান্সলেটর ভরসায় যেমন চলেছি আজ আদিম চ্যারিন ক্যানিয়ন দেখতে। নুরকেলদির প্রকান্ড টয়োটা আলফ্রাড গাড়িটা খুব আরামদায়ক। রাস্তা আর তার আশপাশের দৃশ্য অসাধারণ। শেষ শীতের রুক্ষতা ঝেড়ে ফেলে আলমাটি বসন্তের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। শীত এখানে চরম। হিমাঙ্কের বহু নীচে নামে তাপমাত্রা। তবে সব বাড়ি ঘর, শপিং সেন্টারের ভিতরে সুন্দর হিটিং সিস্টেম আছে। এখন অবশ্য শীত কমে এসেছে, পাহাড়ে বরফ থাকলেও আলামাটিতে নেই। চ্যারিন ক্যানিয়ন যেতে সময় লাগে অনেকটা, প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার রাস্তা। ভোরবেলা বেরিয়ে ঘন্টা খানেক যেতেই শহর ছাড়িয়ে অন্য এক রাজ্যে এসে পড়লাম। চমৎকার রাস্তার দুপাশে বহুদূর ছড়িয়ে থাকা তৃণভূমি, আর সেটা শেষ হচ্ছে বরফ ঢাকা পাহাড়ে। হাওয়া দিচ্ছে প্রচুর। তাপমাত্রা চার কী পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

একজায়গায় দেখি এই দিগন্ত বিস্তৃত তৃণভূমিতে সুন্দর একরকম ঘাস ফুল ফুটে অপরুপ লাগছে। মনে হচ্ছে ফুলের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে কেউ। দাঁড়িয়ে পড়তেই হল। তবে বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। হাওয়া বেশ ঠান্ডা। সোজা এসে নাক মুখে লাগছে। মোটা জ্যকেটেও কাঁপিয়ে দিচ্ছে। নুরকেলদি বলল, এটা সিল্ক রুট। 

সত্যি এটাই সেই পুরনো সিল্ক রুট! এই পথই মধ্য এশিয়ার সব থেকে পুরনো বাণিজ্যপথ। একসময় চীন, ভারত, পারস্য আর ইউরোপকে যুক্ত করেছিল। আলমাটি অঞ্চল (আগে নাম ছিল ভার্নি) ছিল সেই রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। চ্যারিন নদীর আশেপাশের এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে যাযাবর গোষ্ঠী আর বণিকদের চলাচলের সাক্ষী। রোমাঞ্চ হচ্ছিল, কত শত বছর ধরে হেঁটে চলা বণিকের কাফেলার ধুলো মেখে আছে এই পথ। মানুষকে আসলে জুড়েছিল বণিকরাই এক অঞ্চল থেকে আর এক অন্য ভূপ্রকৃতি অঞ্চলের নতুন বাণিজ্য সম্ভাবনার জন্য। আদান প্রদান হয়েছিল খাবার, ভাষা, সংস্কৃতির। সিল্ক রুট মানে তো সভ্যতার চলার ইতিহাস! 

কাজাখস্তানের কিছু অংশে এখনও যাযাবরদের আস্তানা। এই পথে যে গ্রাম গুলো দেখতে পাচ্ছি সেখানে আধুনিক কিছু বাড়ি ঘর থাকলেও, যাযাবরদের বাড়ি “ উর্ট “ দেখা গেল বেশ কিছু। তার সঙ্গে ভেড়ার পাল আর বিস্তীর্ণ চারণভূমি। মধ্য এশিয়ার কাজাখস্তান, কিরঘিস্তান, উজবেকিস্তান আর মঙ্গোলিয়াতে যাযাবর মানুষ এখনও আছে। এই বিস্তীর্ণ চারণভূমি দেখে অবিশ্বাস্য লাগে। ঘোড়া ঘুরে বেড়াচ্ছে কোথাও, ভেড়ার পাল, একজন দুজন টুপি মাথায় মানুষ বহু দূরে। কোথাও আবার কিছুই নেই, পুরোটাই ফাঁকা। খালি হু হু করে হাওয়া ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ছে!

মাঝে নুরকেলদি গাড়ি থামালো একটা সরাইখানায়। চা’ কে এখানে বলে “ সায়” । বড় চিনামাটির পাত্রে চায়ের সঙ্গে মুসম্বি লেবুর মতন গন্ধ লেবু, আরও কিছু ভেষজ মেশানো এক অদ্ভুত পানীয়, এক চুমুকেই সমস্ত ক্লান্তি উধাও। উজবেক প্লভ ( পোলাওয়ের জাত ভাই) ঘোড়ার মাংস দিয়ে তৈরী, কেবাব বা সাসলিক সঙ্গে রুটি। কাজাখস্তান এর খাবারে মাংসের আধিক্য। রুটির মধ্যেও মাংসের পুর। ঘোড়াকে এরা প্রথম পোষ মানিয়েছিল, আবার ঘোড়ার মাংস খাওয়ার চলও বেশী। নুরকেলদি অবশ্য ফিটনেশ ঠিক রাখার জন্য রেড মিট কম খায়। এখানকার মুরগীর মাংসের মত এত সুস্বাদু আর নরম মাংস আগে খাইনি। ঠাণ্ডায় এইসব খাবার জমেও ভালো। খেতে খেতে নুরকেলদির সঙ্গে শাহরুখ খান আর মিঠুন চক্রবর্তী নিয়েও গল্প হলো, অবশ্যই ট্রান্সলেটরের সাহায্যে সঙ্গে ইউটিউবের গান। বলিউড কিন্তু এখানে দারুণ জনপ্রিয়। সেই রাজ কাপুরের আমল থেকেই সোভিয়েত দেশগুলোতে হিন্দী ছবি আর গানের জনপ্রিয়তা। আজও একই রকম ব্যাপার। গাড়িতে উঠেই “ জিমি জিমি “ ডিস্কো ড্যান্সার চালিয়ে দিল নুরকেলদি। 

এদিকে চারদিকের প্রকৃতি হঠাৎ করে পাল্টে গেল। সবুজ মাঠ কমে গিয়ে রুক্ষ লালচে বাদামি পাথুরে মাটি দেখা দিল। তারপর একটা সময়ের পর রাস্তাটা গিয়ে সোজা যেখানে গিয়ে থেমে গেল সেটা একটা বিশাল নদী খাত। যেন রাস্তাটা হঠাৎ ফেটে গিয়ে অদ্ভুত এক গর্তে গিয়ে মিশে গেছে। আসলে এটাই চ্যারিন নদীর ক্যানিয়ন। মধ্য এশিয়ার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। একটা ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঠের সিঁড়ি খাড়া নেমে গেছে প্রায় আশি ফুট নিচে। চারপাশের পাহাড়ের রঙ পুরো লাল। তার সঙ্গে অপরুপ ঢেউ খেলানো রূপ। 

“নীচে যাও। চ্যারিন নদী অবধি যেতে হলে তিন কিলোমিটার হাঁটতে হবে।” নুরকেলদির কথায় সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলাম নদী খাতে। রুক্ষ পাথুরে রাস্তায় কিছুটা হাঁটার পর সামনে খুলে গেল এক অন্য পৃথিবী। প্রকৃতির নিজের হাতে , নিজের খেয়ালে বানিয়ে তোলা বিচিত্র রূপের সব পাথুরে দেওয়াল। সূর্যের আলো ঠিকরে কোথাও কোথাও যেন গলানো সোনার রূপ। মনে হচ্ছে ম্যাকেনার্স গোল্ড সিনেমার শুটিং লোকসানে চলে এসেছি। কিংবা মঙ্গল গ্রহের পথে একা হাঁটছি! নিস্তব্ধ প্রকৃতি,শুধু পাথরের ফাঁক দিয়ে ঝাঁপিয়ে আসা হাওয়ার শব্দ! 

চ্যারিন ক্যানিয়ন প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেলা। কোনও এক আদিম যুগে ভূমিকম্পের কারণে তৈরি হয়েছিল এই বিশাল নদী গর্ভ। ওরা বলে প্রকৃতির তিন রকম শক্তি এক সঙ্গে কাজ করছে এখানে। ভিতরের টেকটনিক প্লেট এর শক্তি নির্গমন, বাইরের বায়ু আর জলের নিজস্ব খেলা। তার সঙ্গে পাথরের বিচিত্র সব রূপ মিলেমিশে এক অপার্থিব রূপ নিয়েছে। নাহ্, এমন ভূপ্রকৃতি শুধু বিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় বর্ণনা হয়না। ওই যে দূরের পথের বাঁকে প্রকৃতির নিজের খেয়ালে গড়ে ওঠা প্রায় এক রাজপ্রাসাদের চেহারার বিশাল প্রস্তর খন্ডগুলো কে সাজালো? বা ওই পর পর ঢেউ খেলানো অদ্ভুত এক সিমেট্রির প্রাকৃতিক আলপনা! কোন শক্তির খেলা চলছে আসলে ভিতরে আর বাইরে! পুরো নদী খাত টাই এমন প্রকৃতির বিচিত্র খেয়াল। সবটাই ওরা রেখে দিয়েছে কোনরকম নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার না করে। 

মাঝে মাঝে শুধু কিছু কাঠের গুঁড়ি পেতে রাখা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য, আর তীর দিয়ে পথ নির্দেশ, কোথাও পাথরের মধ্যেই গুহা, সেখানে বসে একটু জিরিয়ে নেওয়ার আয়োজন। পথের পাশে অল্প কিছু কাঁটা গাছ জন্মেছে, সেগুলোতে ফুলও আছে। এই ক্যানিয়ন প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কিছু অংশে ৩০০ মিটার গভীর। নদীর ক্ষয়প্রক্রিয়ায় কয়েক লক্ষ বছরে এই ক্যানিয়ন গড়ে উঠেছে। লালচে বেলেপাথরের স্তরগুলোতে ভৌগলিক ইতিহাস স্পষ্ট বোঝা যায়—কখনো সাগরের তলদেশ, কখনো মরুভূমির প্রমাণ লুকিয়ে আছে এসব শিলায়। সময় নিয়ে এক একটা পাথরকে দেখলে , হাত দিয়ে অনুভব করলে মনে হবে পৃথিবীর আদিম কোনও এক অংশে যেন হাত দিয়ে দাঁড়ালাম! কখনও এই লাল আর বাদামি পাথরের সব দুর্গের ফাঁকে ঘন কালো কোনও পাথরের দেওয়াল উঁকি মারছে, অসাধারণ বৈপরীত্য! তবে কোনও প্রাণী চোখে পড়ল না। কারণ খাবার নেই। শুধুই রুক্ষ পাথর, আর হাওয়া। 

তিন কিলোমিটার হাঁটার পর অবশেষে এসে পৌছালাম চ্যারিন নদীর কাছে। হাঁটার ক্লান্তি জলের কাছে এসে নিমেষে উধাও। অনেকদিন বাদে একটা সুন্দর নদী দেখলাম। পাহাড়ের বুক চিরে বইছে, জলের রঙ হালকা সবুজ। নদীর বয়ে যাওয়া শব্দ আর হাওয়া ছাড়া আর কিছু নেই। জল ছুঁয়ে দেখি বরফ শীতল। কোনও এক হিমবাহ থেকেই আসছে এই নদী, সমতলে এসে এমন বিচিত্র নদীখাত বানিয়েছে সে। এইবার খেয়াল করলাম স্থানীয় লোকেরা একটা রাশিয়ান মাথা খোলা ট্রাকে করে নদীখাত দিয়ে ওপরে নিয়ে যায়। সেইটা করেই ওপরে যাবো ঠিক করলাম। কারণ আবার ঘণ্টা খানেক হাঁটলে ক্যানিয়নের অন্য প্রান্তে ব্ল্যাক ক্যানিয়ন , মুন ক্যানিয়ন দেখা হবেনা। তারপর যাবো কোলাসাই আর ক্যান্ডাই নামে দুটো অপরুপ হ্রদ দেখতে। কাজাখ দেশের ৩০০ টেঙ্গে ( ভারতীয় প্রায় পঞ্চাশ টাকা) দিয়ে গাড়িতে আমাদের যাওয়া নিশ্চিত করে নিয়ে নদীর ধারে এসে বসলাম। 
এক জায়গায় দেখি পাথরে লেখা রয়েছে “ এই নদী, এই পাহাড়, এই পাথর আমাদের শুধু মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির নিজস্ব যে নিয়ম, যে আইন, সেটা অপরিবর্তনীয়! ওকে জয় করতে যেও না, ওটা আদিম রূপের প্রকাশ, যুগ যুগ ধরে খালি ওকে অনুভব করো, প্রকৃতি অপরাজেয়, প্রকৃতিই ঈশ্বর..।” 
এখন কিছুক্ষণ প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া যাক। লক্ষ বছরের পুরনো এই আদিম স্থানে নিজের সামান্য অস্তিত্বকে অনুভব করি কিছু সময়!