স্বাগতা চৌধুরী:
যাবার আগে
মন্দির ছেড়ে চলে যেতে যেতে শুনি
বাতাসে বাজছে অযুত অর্গান
মন্দিরের সিঁড়িতে একটি কচি মুখ
উদ্বেল ভঙ্গিতে বসা, শয়নও বলা চলে যাকে,
হাসিমুখে হাত নাড়ছে, বিদায়, বিদায়..
মুখ ফেরালেই চোখে পড়ে যায়
শকুন্তলার ভ্রাম্যমাণ হরিণ
তোলপাড় করছে নিখিল ঘাসবন
কেন যে চোখে পড়ে,
পড়ে যায় অযথাই,
এইসব মায়ার ধূলোবালি
কেন যে মনে পড়ে যায়,
ইস্কুল থেকে ফেরেনিতো ছেলে
বাসি দুধের সর জমে জমে ক্ষীর,
উঠোনে তক্তপোষ, শ্বেতপদ্মের ঝাড়,
কেন যে আঙুলের নীচে জমে ওঠে রক্তপ্রবাল
জলের থেকে জলের গভীরে যেতে গেলে
পা দুটি জড়িয়ে ধরে জলজ শৈবাল।।
মেয়েরা
দুঃখী মেয়েদের চোখে কতকিছু পড়ে যায়
ধূলোবালি, সস্তার সেন্ট, বেলুন, বোতামআর
মিছরি হাসির ছুরি, বেমানান রঙ,
কাঁচের পুতুল আর শামলা হাতের ডোলে
সস্তা কাঁচের চূড়ি,
মেয়েরা এসব দেখে, এদিক ওদিক চায়।
দুঃখী মেয়েদের চোখ হাসিতে ঝলসে ওঠে
চলন্ত ট্রেনের বগি, সস্তা নাকের নোলক,
ওঠে নামে, তাস, লুডো খেলে
সিট রাখে পার্সে, রুমালে, এলোচুলে,
হাসির নেশায় ওরা গায়ে গায়ে ঢলে পড়ে
একটি গুণগুণ সুরে কামরায় ঢেউ খেলে যায়
সকালের আকাশে দেখে দলা দলা মেঘ
যেন আলোশালী চালের ভাত, কলার পাতায়..
ব্লাউজে সেফটিপিন, মাথায় নকল ফুল
কৌটোয় টিফিন ভরে, ভোরবেলা কাজে যায়
অনেক দূরের পথ, অনেকটা বেলা হয়
বিকেল বেলায় মেঘ পানপাতা রূপ নেয়
দুঃখী মেয়েটি সে, তার বড় নরম হৃদয়
সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে দেখে,
দরজায় দাঁড়িয়ে গোপাল, অভুক্ত ছেলে
একটি কঠিন হাত বেলীফুল অন্ন সাজায়
দুঃখীরা বেঁচে থাকে, হেসে খেলে, গান গেয়ে
রোদ জল বৃষ্টিতে কালশিটে ঢেকে যায়।














