আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএল জয়ের পর গত ৪ জুন পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করল আরসিবি। জানা গিয়েছে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুরই একটি পার্শ্ব সংস্থা আরসিবি কেয়ার্সের তরফে মৃতদের পরিবারকে এই ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। শনিবার ফ্র্যাঞ্চাইজির অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টগুলোতে ঘোষণা করে জানানো হয়, তাদের নতুন সামাজিক উদ্যোগ আরসিবি কেয়ার্সের আওতায় এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এবারের আইপিএলের পর চিন্নাস্বামীর বাইরে যে ঘটনাটি ঘটে তা বেঙ্গালুরু শহরের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরসিবি প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জেতার পর হাজার হাজার উচ্ছ্বসিত ভক্ত চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে জমায়েত হয়েছিলেন।
আনন্দ উল্লাসে উন্মত্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্টেডিয়ামের গেটে ঢুকে যায়। যার ফলে ১১ জন নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হন। ৮৬ দিন পর আরসিবি ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করে। ফ্র্যাঞ্চাইজের আবেগপূর্ণ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের হৃদয় ভেঙে যায় চলতি বছরের গত ৪ জুন। আমরা আমাদের আরসিবি পরিবারের ১১ সদস্য হারিয়েছি। তারা আমাদের অংশ ছিলেন। আমাদের শহর, কমিউনিটি ও টিমকে যা বিশেষ করে তোলে, তার অংশ ছিলেন তারা। তাদের অনুপস্থিতি আমাদের প্রত্যেকের স্মৃতিতে গভীর প্রভাব রাখবে’। এটি আরসিবির জুন মাসের প্রাথমিক ঘোষণার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। প্রথমে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং আহতদের সহায়তার জন্য আরসিবি কেয়ার্স ফান্ড তৈরি করেছিল।
তবে তখন সমালোচকরা এটিকে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ হিসেবে দেখেছিলেন, যা প্রকৃত সহমর্মিতা নয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপর এই ঘটনাকে ঘিরে প্রচুর জলঘোলা হয়। কর্ণাটক সরকার সরাসরি আরসিবিকে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে। পরে একটি কমিশন পদপিষ্টের পর্যালোচনায় চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে বৃহৎ জনসমাগমের জন্য অসমর্থ ও অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করে। প্রথম দিকে, আরসিবি শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ত সমবেদনা বার্তা দিয়েছিল। অনেক ভক্তের কাছে এই নীরবতা ঘটনাটির চেয়েও বেশি কষ্টের হয়ে দাঁড়ায়। তারা মনে করেছিল, এই সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি বিজয়ের উদযাপনকে জীবনহানির চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এবার, তিন মাস পর আরসিবির ক্ষতিপূরণ বাড়ানো এবং আরসিবি কেয়ার্স প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে প্রকৃত প্রতিশোধ ও সামাজিক দায়িত্বের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির বক্তব্য, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র এককালীন আর্থিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির মাধ্যমে মৃতদের স্মরণে কাজ করবে।
