আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি–২০ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বাংলাদেশের টালবাহানা চলছেই। নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসতে চাইছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চাইছে তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত করা হোক। কিন্তু আইসিসি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। ভেন্যু বদলের কোনও ভাবনাই আইসিসির মাথায় আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে বিতর্কিত ও ভারত বিদ্বেষী ডিরেক্টর নাজমুল ইসলামকে এখনও বরখাস্ত করেনি বিসিবি। যার ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে অচলাবস্থাও কাটছে না। ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে প্রথম বিভাগ লিগ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলাও হবে না বলেই খবর।
বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে সে দেশের ক্রিকেট সমাজের রোষের মুখে পড়েছেন নাজমুল। যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন বর্তমান টিমের ক্রিকেটাররাও। এবং সেখানেই ক্ষান্ত হননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ডিরেক্টর। বুধবার তিনি ফের বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। বলে দেন, একবার টি–২০ বিশ্বকাপ না খেললে বড় কোনও ক্ষতি হবে না। আর কোটি–কোটি টাকা খরচ করে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ খেলতে পাঠানোর পরেও যদি তাঁরা কিছু না করতে পারেন, তখন কী হবে? ক্রিকেটারদের থেকে কি টাকা ফেরত চাওয়া হবে?
এই মন্তব্যের পরই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার সংস্থার প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মিঠুন স্পষ্ট বলে দেন, নাজমুল ইসলাম যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে ক্রিকেটাররা কোনও ধরনের ক্রিকেটই খেলতে নামবেন না! বুধবার রাতে ক্রিকেটারদের বোঝানোর একটা চেষ্টা বিসিবি করেছিল। নাজমুলের বিতর্কিত মন্তব্যের পর দ্রুত একটা বিবৃতি জারি করে বাংলাদেশ বোর্ড। সেখানে বলা হয়, ‘উনি যা বলেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখনজক, অসম্মানজনক। বাংলাদেশ বোর্ড যে মনোভাব নিয়ে চলে, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যদি সংস্থার কোনও ডিরেক্টর বিতর্কিত কোনও মন্তব্য করে থাকেন, তার দায় বোর্ড নেবে না। বোর্ডের মুখপাত্র যতক্ষণ না কোনও বিবৃতি দিচ্ছেন, ততক্ষণ সেটা আমাদের সরকারি বয়ান নয়।’ বোর্ডের ৩ ডিরেক্টর ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাতেই। বোর্ডের তরফে বলা হয়, নাজমুলকে অর্থ বিভাগের যাবতীয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এমনকী নাজমুলকে শোকজও করা হয়। কিন্তু তাতেও বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ক্ষোভ কমেনি।
যা পরিস্থিতি তাতে বাংলাদেশে সবরকম ক্রিকেট বন্ধ। ক্রিকেটাররা নিজেদের অবস্থানে অনড়। নাজমুল ইসলামকে না সরালে তাঁরা মাঠে নামবেন না। ফলে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট এখন পুরোপুরি বন্ধ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলা হয়ত বৃহস্পতিবার হবে না।
