মিল্টন সেন, হুগলি: সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে চুঁচুড়ায়। চুঁচুড়া পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের জগুদাশপাড়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, অভিযোগ এনেছেন এলাকারই স্থানীয় এক বাসিন্দা পূর্বা আশ নামে এক মহিলা। তিনি তাঁর ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে গিয়ে অপহরণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার জোরে কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন তিনি। ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য স্থানীয়দের মধ্যে।
সুত্র মারফত জানা গিয়েছে, পূর্বা আশ নামের ওই মহিলা নিত্যদিনের মত তাঁর ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে যান। তাঁর ছেকে ব্যান্ডেলের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করে। প্রতিদিনের মতই মঙ্গলবার দুপুরে তিনি টোটোতে করে স্কুলের দিকে যাচ্ছিলেন তাঁর ছেলেকে আনতে। আনতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। আচমকা সেই সময় তাঁর সন্দেহ হয় টোটো চালকের উপর। এরপর শুরু হয় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি।
সূত্রে জানা গিয়েছে, টোটো চালক প্রথম থেকেই সন্দেহজনক আচরণ করছিল বলে অভিযোগ। পূর্বা আশ জানান, টোটো চালক বারবার পিছনে ফিরে কথা বলছিল এবং বলছিল, 'ধরে বসুন, রাস্তা খুব খারাপ।' এরপর আচমকাই সে একটি শিশি খুলে দেয়। সেখান থেকে একটি তীব্র কটু গন্ধ বেরোতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মহিলা অচেতন হওয়ার অনুভব করতে থাকেন। মহিলা জানান তাঁর চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি সাহস করে চলন্ত টোটো থেকে ঝাঁপ দেন। এতে তিনি আহত হন, কিন্তু প্রাণে বাঁচেন।
আরো পড়ুনঃ প্রকাশ্যে জুনিয়র ডাক্তারকে হামলা! জম্মু মেডিক্যাল কলেজের ভিডিও ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য...
পূর্বা আশ বুঝতে পারেন, ব্যান্ডেলের পথে না গিয়ে টোটোটি অন্যদিকে, অর্থাৎ কাপাসডাঙার দিকে যাচ্ছে। এরপর তিনি আশঙ্কা করেন, তাঁকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঠিক সেই সময় কাপাসডাঙার রাস্তায় তাঁর নিজের পাড়ার এক পরিচিত মহিলা তাঁকে দেখে চিনে ফেলেন। তিনিই দ্রুত টোটোর চাবি খুলে নেন। এরপর এলাকাবাসীকে খবর দেন তিনি।
ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে টোটো চালককে ধরে ফেলেন। পরে পূর্বাকে টোটোতে করে ফিরিয়ে নিয়ে যান জগুদাশপাড়ায়। সেখানেই অভিযুক্ত চালককে আটক করা হয়৷ স্থানীয়রা খবর দেয় চুঁচুড়া থানায়।
আরও পড়ুনঃ নিজের ৫ বছরের মেয়েকে খুন করে মৃতদেহের সামনেই পার্টি! উদ্দেশ্য স্বামীকে ফাঁসান, হাড়হিম সত্য জানুন ...
খবর পেয়ে চুঁচুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সমস্তটা পুনরায় শুনে অভিযুক্ত টোটো চালক কে ও তার টোটোটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পূর্বা আশ পরে জানান, ছেলের কথা মনে পড়তেই টোটো থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। সেই সাহসিকতাই তাঁকে বাঁচিয়ে দেয়। বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওই যুবক কে, তার আসল পরিচয় কী, এবং সত্যিই অপহরণের চেষ্টা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে কিনা তা তদন্তের পরই বলা যাবে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।















