প্রথম সিজনের জনপ্রিয়তার পরে প্রত্যাশা মেটাল ‘বোধন ২’? সিরিজ দেখে লিখলেন পরমা দাশগুপ্ত।
লালমাটির গ্রাম-জঙ্গলে শেষ কথা বলে ক্ষমতার বল। সেই জোরেই রমরমিয়ে নারী পাচার, রাতবিরেতে খুন। তবু টুঁ শব্দটি করে না কেউ। কোনও একদিন এমন এক গ্রামেই যদি জেগে ওঠে নারীশক্তি? সব বাধা পেরিয়ে, সব খারাপকে হারিয়ে, দুষ্টের দমনের ভার তুলে নেয় নিজের হাতে? জেগে ওঠার সেই চেনা ছকের কাহিনিই নতুন স্বাদে, নতুন করে বলল ‘বোধন ২’। হইচইয়ের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় সিজন।
প্রথম সিজনের শেষেই ইঙ্গিত মিলেছিল কলেজের প্রফেসর রাকা সেন (সন্দীপ্তা সেন) ও পুলিশের ডিভিশনাল কমিশনাল ঋজু গাঙ্গুলির (কৌশিক রায়) জমাটি প্রেমের। এই সিজনে তাদের দাম্পত্যের বয়স ছ’মাস। এক ব্রিজ ভেঙে পড়ার তদন্তে প্রত্যন্ত গ্রাম ইপিলপুরে যেতে হবে ঋজুকে। কাজের সুযোগেই হানিমুন। তাই সঙ্গী রাকাও। সে গ্রামে পা রাখতে না রাখতেই রাকাকে ঘিরে ধরল একদল পুরুষের ঘিনঘিনে নজর। এ গ্রামে যে নারীপাচারের অবাধ চোরাগলি– এ সত্যটাও জানা হয়ে গেল অচিরেই। এবং ঋজুর হাজার আপত্তি সত্ত্বেও প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠল রাকা। গ্রামের বারো থেকে পনেরোর মেয়েদের দলটাকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে পাচার যে আটকাতে হবে! কিন্তু পারবে কি রাকা? লড়াই জিতবে নাকি নিজেই জড়িয়ে পড়বে বিপদের জালে? উত্তর মিলবে সিরিজের ছয় পর্বে।
সন্দীপ্তা-কৌশিক অভিনয়ের ধারে কেউই কম যান না। তবে তাঁদের জুটিটা আরও একটু দানা বাঁধতে পারতো হয়তো। জঙ্গলের মুকুটহীন রাজা বিধায়ক সত্যপ্রকাশ চৌধুরীর (লোকনাথ দে) ছেলে সুখেন চৌধুরী (ইন্দ্রাশিস রায়)। সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে সে-ই অপরাধের জাল বোনে গ্রাম জুড়ে। লোকনাথ ইদানীং ওটিটি দুনিয়ায় রণে-বনে, জলে-জঙ্গলে সর্বত্র বিরাজমান। এখানেও ছোট্ট একটা চরিত্রে যেটুকু জায়গা পেয়েছেন, নজর কেড়েছেন। ভিলেন চরিত্রে ইন্দ্রাশিসকেও মন্দ লাগে না।
তবে হ্যাঁ, এ সিরিজে যদি কেউ চোখ টানেন, তিনি দেবজ্যোতি রায়চৌধুরী। সুখেনের ডান হাত বুধুয়া, যার চাহনি থেকে কথা, হাত-পা নাড়া থেকে স্রেফ এসে দাঁড়ানো সবটার মধ্যেই কাম, লালসা, আর রগরগে যৌন চাহিদার গন্ধ। এমন এক চরিত্রকে একেবারে রক্তমাংসের করে পর্দায় হাজির করেছেন দেবজ্যোতি। প্রথম দর্শনেই যাকে দেখলে গা ঘিনঘিনে বিরক্তি থেকে শিরদাঁড়া বেয়ে শিরশিরে ভয়, দুটোই একসঙ্গে হানা দেয়।
প্রথম সিজনের শহুরে কাহিনির চেয়ে এবারের গল্প স্বাদে অনেকটাই আলাদা। সমাজের অন্ধকার দিকগুলোতে আলো ফেলার ছবিটাও অন্যরকম। তবে বড্ড সরলরেখায় হেঁটেছে যেন। গল্প শেষ করাতেও যেন কেমন একটা তাড়াহুড়ো। আর একটা পর্ব বাড়িয়ে, উত্তেজনাকে আরও কিছুটা উস্কে দিয়ে আরও খানিক বিশ্বাসযোগ্য করাই যেত হয়তো। পরিচালক অদিতি রায় এদিকটায় আর একটু যত্ন নিতে পারলে মন্দ হত না।
তবে এই খামতির জায়গাগুলো যথাসাধ্য ঢেকে দিয়েছে টানটান গল্প বলা আর চোখজুড়োনো লোকেশন। ড্রোন শটে ধরা সবুজে ঢাকা হাইওয়ে কিংবা রাকার গাড়ি নিয়ে হারিয়ে যাওয়ার এক দৃশ্যে এক ছবির মতো নদীর পার দেখে একছুটে বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে করবেই! বড়দিনের ছুটি ছুটি মেজাজে এ জিনিস নিঃসন্দেহে বাড়তি পাওনা।
লালমাটির গ্রাম-জঙ্গলে শেষ কথা বলে ক্ষমতার বল। সেই জোরেই রমরমিয়ে নারী পাচার, রাতবিরেতে খুন। তবু টুঁ শব্দটি করে না কেউ। কোনও একদিন এমন এক গ্রামেই যদি জেগে ওঠে নারীশক্তি? সব বাধা পেরিয়ে, সব খারাপকে হারিয়ে, দুষ্টের দমনের ভার তুলে নেয় নিজের হাতে? জেগে ওঠার সেই চেনা ছকের কাহিনিই নতুন স্বাদে, নতুন করে বলল ‘বোধন ২’। হইচইয়ের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় সিজন।
প্রথম সিজনের শেষেই ইঙ্গিত মিলেছিল কলেজের প্রফেসর রাকা সেন (সন্দীপ্তা সেন) ও পুলিশের ডিভিশনাল কমিশনাল ঋজু গাঙ্গুলির (কৌশিক রায়) জমাটি প্রেমের। এই সিজনে তাদের দাম্পত্যের বয়স ছ’মাস। এক ব্রিজ ভেঙে পড়ার তদন্তে প্রত্যন্ত গ্রাম ইপিলপুরে যেতে হবে ঋজুকে। কাজের সুযোগেই হানিমুন। তাই সঙ্গী রাকাও। সে গ্রামে পা রাখতে না রাখতেই রাকাকে ঘিরে ধরল একদল পুরুষের ঘিনঘিনে নজর। এ গ্রামে যে নারীপাচারের অবাধ চোরাগলি– এ সত্যটাও জানা হয়ে গেল অচিরেই। এবং ঋজুর হাজার আপত্তি সত্ত্বেও প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠল রাকা। গ্রামের বারো থেকে পনেরোর মেয়েদের দলটাকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে পাচার যে আটকাতে হবে! কিন্তু পারবে কি রাকা? লড়াই জিতবে নাকি নিজেই জড়িয়ে পড়বে বিপদের জালে? উত্তর মিলবে সিরিজের ছয় পর্বে।
সন্দীপ্তা-কৌশিক অভিনয়ের ধারে কেউই কম যান না। তবে তাঁদের জুটিটা আরও একটু দানা বাঁধতে পারতো হয়তো। জঙ্গলের মুকুটহীন রাজা বিধায়ক সত্যপ্রকাশ চৌধুরীর (লোকনাথ দে) ছেলে সুখেন চৌধুরী (ইন্দ্রাশিস রায়)। সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে সে-ই অপরাধের জাল বোনে গ্রাম জুড়ে। লোকনাথ ইদানীং ওটিটি দুনিয়ায় রণে-বনে, জলে-জঙ্গলে সর্বত্র বিরাজমান। এখানেও ছোট্ট একটা চরিত্রে যেটুকু জায়গা পেয়েছেন, নজর কেড়েছেন। ভিলেন চরিত্রে ইন্দ্রাশিসকেও মন্দ লাগে না।
তবে হ্যাঁ, এ সিরিজে যদি কেউ চোখ টানেন, তিনি দেবজ্যোতি রায়চৌধুরী। সুখেনের ডান হাত বুধুয়া, যার চাহনি থেকে কথা, হাত-পা নাড়া থেকে স্রেফ এসে দাঁড়ানো সবটার মধ্যেই কাম, লালসা, আর রগরগে যৌন চাহিদার গন্ধ। এমন এক চরিত্রকে একেবারে রক্তমাংসের করে পর্দায় হাজির করেছেন দেবজ্যোতি। প্রথম দর্শনেই যাকে দেখলে গা ঘিনঘিনে বিরক্তি থেকে শিরদাঁড়া বেয়ে শিরশিরে ভয়, দুটোই একসঙ্গে হানা দেয়।
প্রথম সিজনের শহুরে কাহিনির চেয়ে এবারের গল্প স্বাদে অনেকটাই আলাদা। সমাজের অন্ধকার দিকগুলোতে আলো ফেলার ছবিটাও অন্যরকম। তবে বড্ড সরলরেখায় হেঁটেছে যেন। গল্প শেষ করাতেও যেন কেমন একটা তাড়াহুড়ো। আর একটা পর্ব বাড়িয়ে, উত্তেজনাকে আরও কিছুটা উস্কে দিয়ে আরও খানিক বিশ্বাসযোগ্য করাই যেত হয়তো। পরিচালক অদিতি রায় এদিকটায় আর একটু যত্ন নিতে পারলে মন্দ হত না।
তবে এই খামতির জায়গাগুলো যথাসাধ্য ঢেকে দিয়েছে টানটান গল্প বলা আর চোখজুড়োনো লোকেশন। ড্রোন শটে ধরা সবুজে ঢাকা হাইওয়ে কিংবা রাকার গাড়ি নিয়ে হারিয়ে যাওয়ার এক দৃশ্যে এক ছবির মতো নদীর পার দেখে একছুটে বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে করবেই! বড়দিনের ছুটি ছুটি মেজাজে এ জিনিস নিঃসন্দেহে বাড়তি পাওনা।
















