পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে ঘনীভূত উত্তেজনার মাঝে ভারতের রান্নার গ্যাসের সংকটে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির বার্তা এল। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার অত্যন্ত কৌশলগত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ‘হরমুজ প্রণালী’ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে আসা রান্নার গ্যাসের একটি বড় চালান কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরু বন্দরে পৌঁছেছে, যা দেশের তলানিতে ঠেকে যাওয়া গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক করতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
2
5
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ‘গ্রিন সানভি’ নামে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ৪৬,৬৫০ টন এলপিজি কার্গো এবং ২৫ জন নাবিককে নিয়ে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর এই জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। গ্রিন সানভি হল সপ্তম ভারতীয় জাহাজ যা এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেও সফলভাবে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে আসতে পেরেছে। অন্যদিকে, ম্যাঙ্গালুরু বন্দরে নোঙর করেছে ‘সি বার্ড’ নামের একটি জাহাজ, যা ইরান থেকে প্রায় ৪৪,০০০ টন গ্যাস নিয়ে এসেছে। গত মাসে আমেরিকা ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় দীর্ঘ সাত বছর পর এই আমদানি সম্ভব হল।
3
5
ভারতের মতো দেশের জন্য এই খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের রান্নার গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই মেটানো হয় বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে। আর এই আমদানির ৯০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যার প্রধান পথ হল এই হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় গত কয়েক দশকে দেশ সবথেকে বড় গ্যাস সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে গত কয়েক দিনে ‘বিডব্লিউ টির’, ‘বিডব্লিউ এলম’, ‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’-এর মতো বেশ কয়েকটি জাহাজ মুম্বই, ম্যাঙ্গালুরু, মুন্দ্রা এবং কাণ্ডলা বন্দরে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টন এলপিজি দেশে পৌঁছানোয় রান্নার গ্যাসের জন্য যে দীর্ঘ লাইন ও হাহাকার তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত মিটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
4
5
তবে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগের কাঁটাও রয়ে গেছে। সরকার জানিয়েছে, এখনও ১৭টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং প্রায় ৪৬০ জন ভারতীয় নাবিক হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে আটকা পড়ে আছেন। কর্তৃপক্ষ এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং (DG Shipping) সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে এই জাহাজগুলোর গতিবিধি এবং নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর নজর রাখছে। ইরান অবশ্য জানিয়েছে যে, ‘শত্রু নয়’ এমন জাহাজগুলো তাদের সাথে সমন্বয় করে এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।
5
5
বন্দর ও জাহাজ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতের সমস্ত বন্দরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনও জট নেই। এখনও পর্যন্ত ১,৩২০ জন ভারতীয় নাবিককে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ সরেনি ঠিকই, কিন্তু সমুদ্রপথে গ্যাসের এই আনাগোনা অন্তত কোটি কোটি ভারতীয় পরিবারের হেঁশেলের আগুন জ্বালিয়ে রাখার পথে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। আমজনতার জন্য বার্তা এটাই—জোগান বাড়ছে, তাই আতঙ্কিত হয়ে কালোবাজারি বা অতিরিক্ত মজুত করার প্রয়োজন নেই।