রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Parliament: অর্থনৈতিক অপরাধীদের হাতকড়া নয়, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

Rajat Bose | ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৪ : ১২


বীরেন ভট্টাচার্য, দিল্লি: অর্থনৈতিক অভিযুক্তদের হাতকড়া পড়ানো যাবে না। তাঁদের ধর্ষণ, খুনের মতো জঘন্য অপরাধীদের সঙ্গে এক সারিতে রাখা যাবে না। ভারতীয় দণ্ড সংহিতা নিয়ে রিপোর্টে সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বক্তব্য, হাতকড়া ব্যবহার করা উচিত, জঘন্য অপরাধীদের ক্ষেত্রে। যেখানে অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের সময় থাকা পুলিশ কর্মী এবং অন্যান্যদের সুরক্ষার জন্য অভিযুক্তের হাতে হাতকড়া পরানো প্রয়োজন।  কমিটির বক্তব্য, অর্থনৈতিক অপরাধ এর সঙ্গে এক সারিতে রাখা ঠিক নয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অপরাধ ছোট থেকে বড় সবরকমের হতে পারে। ফলে, সবক্ষেত্রেই হাতকড়া পরিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সঠিক নয়। কমিটির তরফে অর্থনৈতিক অপরাধ শব্দটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‌‌‘‌পুলিশ আধিকারিকরা অপরাধ বিচার করে হাতকড়া ব্যবহার করবেন। অর্থাৎ, অভিযুক্ত স্বভাবগত, দাগী অপরাধী, হেফাজত থেকে পলাতক, সংগঠিত অপরাধী, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ, অস্ত্র বিস্ফোরক সরবরাহে যুক্ত, ধর্ষণ, খুন, অ্যাসিড হামলা, নোট জালিয়াতি, মানব পাচার, শিশুদের ওপর যৌন হেনস্থা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ, দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা অথবা অর্থনৈতিক অপরাধী কিনা সব দিক বিবেচনা করে হাতকড়া ব্যবহার করা উচিত।’‌  এদিকে, গত শুক্রবার রাজ্যসভায় পেশ করা ভারতীয় দণ্ড সংহিতা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ নিয়ে ক্ষোভ অব্যাহত বিরোধীদের। বিল নিয়ে ডিসেন্ট নোট বা লিখিত আপত্তি জমা দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ৯৩ শতাংশ আইন কপি পেস্ট করা হয়েছে, ফলে নতুন করে এই আইন আনার কোনও প্রয়োজন ছিল না। ডেরেকের অভিযোগ, সংসদীয় প্রথা মেনে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা হয়নি। লিখিত আপত্তিতে তিনি জানিয়েছেন, যাঁদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে শাসক দলের যোগ রয়েছে অথবা ছিল। ডেরেকের অভিযোগ, দিল্লিতে ঠাণ্ডা ঘরে বসে আইন তৈরি করা হয়েছে। যে আইন দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে জড়িত, সেই আইন তৈরির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ফিল্ড ওয়ার্ক না করে সংসদীয় প্রথাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু, এলজিবিটি, মহিলাদের দিকটি নিয়ে যথাযথ চর্চা করা হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, বিল শুধুমাত্র হিন্দিতে করা চলবে না। ইংরাজিতেও রাখতে হবে। তিনি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র হিন্দিতে বিল তৈরি, হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাই নয়, এটা অসাংবিধানিকও। তাঁর বক্তব্য, তড়িঘড়ি করে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করা হয়েছে। এমনকী, উৎসবের সময়েও বৈঠক হয়েছে। সেই সময় সাংসদদের অন্যত্র কর্মসূচী স্থির থাকায় তাঁরা ঠিকমত মতামত দিতে পারেননি। ফলে কমিটির সব সদস্য ঠিকমতো নিজেদের মতামত জানাতে পারেননি। এমনকী, খসড়া রিপোর্ট তৈরিতে মাত্র ৫ দিনের সময় দিয়ে অত্যন্ত তড়িঘনি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ডেরেকের।  বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস বা যে কোনও ধরণের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তির সুপারিশের বিরোধিতা করেছেন ডেরেক ও ব্রায়েন। কারণ, তাঁর মতে, এটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত বিষয়। রাষ্ট্রদ্রোহ আইনকে ফিরিয়ে আনা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রেই আইন কমিশনের বিপরীত বিধি রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অবহেলার কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৭ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ৫ বছর করার সুপারিশ করেছেন ডেরেক। কারণ, হিসেবে ডেরেক উল্লেখ করেছেন, যে কোনও রকমের ব্যর্থতাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা নয়। কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিজ লালকে দেওয়া ৯টি চিঠি যুক্ত করা হয়েছে ডিসেন্ট নোটে।



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া