আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ ভর্তি করানো হয়েছে ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে। এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, সপ্তাহের শেষে দু’বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় উপরাষ্ট্রপতিকে। ধনখড় বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এইমস কর্তৃপক্ষ কোনও নির্দিষ্ট মেডিকেল বুলেটিন প্রকাশ করেনি।
সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৪ বছর বয়সী ধনখড় ১০ জানুয়ারি স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। ওই দিন বাথরুমে গিয়ে জ্ঞান হারান তিনি। এর পরে তাঁকে এইমস-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর আরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। এআইআইএমএস-এর চিকিৎসকরা এই অসুস্থতার কারণ নির্ণয়ের জন্য তাঁর ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) স্ক্যান করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধানখড় প্রাথমিকভাবে সোমবার একটি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এইমস-এ গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর উপসর্গ এবং সাম্প্রতিক জ্ঞান হারানোর ঘটনাগুলি পর্যালোচনা করার পর চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন।
স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণ দেখিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ধনখড়। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এটি ধানখড়ের প্রথম স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা নয়। দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি কচ্ছের রন, উত্তরাখণ্ড এবং কেরল সফর-সহ বেশ কয়েকটি জনসমাবেশে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন বা অসুস্থ বোধ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে তাঁর স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই উপরাষ্ট্রপতি ধনখড় আচমকা পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে লেখা পদত্যাগপত্রে তিনি ‘স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার’ প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। সেই সময়ে তাঁর বিদায় রাজনৈতিক জল্পনা জন্ম দিয়েছিল। কারণ তিনি সেদিন সকালেই সংসদীয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন। সেই সময় তাঁর গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। গত বছর আকস্মিক পদত্যাগের ফলে তিনি ভারতের ইতিহাসে হাতেগোনা কয়েকজন উপরাষ্ট্রপতির একজন, যিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ধনখড় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন। এছাড়াও তিনি সাংসদ-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
