‘অপরাজিত’ নাম সার্থক! আপাতত এমনই বক্তব্য সবার। 

কারণ? দু’বছর পরে নন্দনে অবশেষে দেখানো হচ্ছে অনীক দত্তর ছবিটি। কীভাবে ছবিটি নন্দনে জায়গা করে নিল? খবর, ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিস অফ ইন্ডিয়া ইস্টার্ন রিজিয়ন নন্দন-এ একটি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে। সহযোগিতায় ফিপ্রেসি ইন্ডিয়া। এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ তৈরির নেপথ্য কাহিনি নিয়ে তৈরি ‘অপরাজিত’। পরিচালক এবং FFSI-এর পক্ষ থেকে প্রেমেন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, ২৪ এপ্রিল নন্দন ৩-এ বিকেল ৫টায় দেখানো হবে ছবিটি। সবিস্তার জানতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল অনীকের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, খবর ছড়াতেই খুব খুশি দর্শকেরা। তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত ভাবে ফোন করে পরিচালককে জানিয়েছেন, আরও একবার ছবি দেখার সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করবেন না। আপ্লুত ছবির নায়ক জীতু কমলও। তাঁর দাবি, ‘‘অনীকদা যে কত বড় যুদ্ধজয় করলেন সেটা একমাত্র তিনিই জানেন।’’



ছবি তৈরির সময় থেকেই চর্চায় ‘অপরাজিত’। ২০২২-এ ছবিমুক্তি সময় সেই চর্চা উন্মাদনায় রূপান্তরিত হয়েছিল। দর্শক মুখিয়ে ছিল নন্দনে ছবিটি দেখার জন্য। অথচ, যাঁর নামকরণ এবং ক্যালিগ্রাফিতে ‘নন্দন’-এর জন্ম সেই জন্মদাতা সত্যজিৎ রায়ের উপরে আধারিত ছবিই জায়গা পায়নি সরকারি প্রেক্ষাগৃহে! তাই নিয়ে তুমুল বাকবিতণ্ডা চলেছিল। কিন্তু কী কারণে নিষিদ্ধ ‘অপরাজিত’, কেউ জানতে পারেনি। দু’বছর পরে সেই সমস্যা কমে গেল? পরিচালকের কাছে প্রশ্ন রেখেছিল আজকাল ডট ইন। অনীক তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘আগে কেন দেখানো হয়নি, তাই নিয়ে মাথা ঘামাইনি। বাকিরা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। নন্দনে ছবিটি দেখানো হবে জেনে ভাল লাগছে। তবে এটি FFSI দেখাচ্ছে বলেই বোধহয় কারও সমস্যা নেই।’’

সামনে লোকসভা নির্বাচন। ‘অপরাজিত’ কি তাই নন্দনে জায়গা পেল? এই তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছেন খোদ পরিচালক। তাঁর পাল্টা যুক্তি, ‘‘নানা ভাষার মোট ছ’টি ছবি দেখানো হবে। তার মধ্যে ‘অপরাজিত’ একটি। সম্ভবত সেই কারণেই হয়তো কারও চোখে সেভাবে পড়েনি!’’ 



খুশি ছবির অন্যতম অভিনেতা দেবাশিস রায়। তিনি সত্যজিৎ রায়ের ক্যামেরাম্যান "সুব্রত মিত্র"র  চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অর্থাৎ, ছবিতে তিনি অপরাজিত রায়ের ক্যামেরাম্যান সুবীর মিত্র। তাঁর মতে, আজ তিনি যতটা অর্জন করতে পেরেছেন তার নেপথ্য অনীক দত্তর ছবির অবদান অনস্বীকার্য। দু’বছর আগে নন্দনে ‘অপরাজিত’ মুক্তি না পাওয়া যন্ত্রণা দিয়েছিল জীতুকে। এই খবর ছড়ানোর পরে তাঁর মুখেও জয়ের হাসি। বলেছেন, ‘‘এই একটি ছবি, এই চরিত্র বাঙালির মনে আমার জায়গা পাকা করে দিল। অনীকদার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’’