সাঁইথিয়া ওয়েকআপ নাট্যদলের আয়োজনে ২৮ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়ে গেল 'নমামি ভারত – জাতীয় নাট্য উৎসব ২০২৬।' সাঁইথিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব নাট্যপ্রেমীদের কাছে এক উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে উঠেছিল।

২৮ মার্চ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সম্মাননা পর্বের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। এদিন বিশিষ্ট নির্দেশক শ্রী কল্লোল ভট্টাচার্যকে 'ওয়েকআপ সম্মান ২০২৬'-এ ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বামী নির্মলানন্দ মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তিলক সেনগুপ্ত, দেবাশীষ সাহা, সাধন দাস এবং পৌরপ্রধান বিপ্লব দত্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

পাঁচদিনব্যাপী এই নাট্যোৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাট্যদল অংশগ্রহণ করে। উৎসবে মঞ্চস্থ হওয়া উল্লেখযোগ্য নাটকগুলির মধ্যে ছিল— 'কেন চেয়ে আছে গো মা', 'একটি ভালবাসার গল্প, 'বিসর্জন', 'আজকের অভিমন্যু', 'ভারতবর্ষ', 'ফিন্দায়', 'রাত কাহন', 'আবার অমল', 'একটি হাঁসের গল্প', 'হারানো প্রাপ্তি', 'শর্ত', 'পঞ্চমীর চাঁদ', 'বহুরূপিয়া' এবং উৎসবের শেষ দিনে অনীকের বিশেষ প্রযোজনা 'আক্ষরিক' মঞ্চস্থ হয়, যা দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।জব্বলপুর থেকে ছিল হিন্দি নাটক 'পর পজেব না ভিগে' এছাড়াও আয়োজক দলের 'ঠাকুরদা', এবং 'অরাজনৈতিক', দর্শকদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে।

ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের আর্থিক সহায়তায় আয়োজিত এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল নাট্যচর্চার প্রসার, এবং বিভিন্ন প্রান্তের সাংস্কৃতিক ভাবনাকে এক মঞ্চে তুলে ধরা, যা আয়োজকদের মতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব জুড়ে নাট্যপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 

শেষ দিনে প্রায় ৪০০ দর্শক টিকিট কেটে 'আক্ষরিক' নাটকটি দেখেন। দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, সাঁইথিয়ায় নাটকের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও অটুট।

আয়োজক সাঁইথিয়া ওয়েকআপ নাট্যদল এর সম্পাদক পান্নালাল ভট্টাচার্য, সকল শিল্পী, অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এই উৎসব আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।