নন স্টিক প্যানে রান্না করা খাবার থেকে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি, নষ্ট হচ্ছে প্রজনন ক্ষমতা, কী বলছে গবেষণা?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১ : ২২
শেয়ার করুন
1
12
আপনার রান্নাঘরে থাকা একটি সাধারণ ফ্রাইং প্যান চুপিসাড়ে করছে বিপুল ক্ষতি৷ সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে নন-স্টিক প্যানে একটি ছোট আঁচড় থাকলেই তার থেকে হাজার হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা খাবারের মধ্যে মিশে যেতে পারে।
2
12
প্যানের কোটিং খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা দুই মিলিয়নেরও বেশি হতে পারে। এই দাবিতে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷
3
12
তথ্য অনুযায়ী, টেফলনজাতীয় কোটিং থাকা নন-স্টিক পাত্রে আঁচড় পড়লে বা কোটিং সামান্য নষ্ট হয়ে গেলেও সেখান থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বের হতে পারে।
4
12
এই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা এতই ছোট যে চোখে দেখা যায় না, কিন্তু রান্নার সময় খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
5
12
নন-স্টিক কোটিংয়ে প্রায়ই PFAS (পার- ও পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল পদার্থ) থাকে, যেগুলোকে “ফরএভার কেমিক্যাল” বলা হয়। এগুলো সহজে পরিবেশ বা শরীর থেকে নির্গত হয় না৷
6
12
গবেষণায় দেখা গেছে, PFAS-এর সংস্পর্শে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, প্রজনন ক্ষমতা কমতে পারে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে, কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
7
12
বিশ্বের বহু মানুষের রক্তেই ইতিমধ্যে PFAS-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলেও দাবি বিশেষজ্ঞদের৷ প্রতিদিনের রান্না কি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব নন-স্টিক প্যান বিপজ্জনক নয়।
8
12
কিন্তু প্যানের কোটিং যখন উঠে যাচ্ছে বা আঁচড় পড়েছে, তখন তাকে বারবার উচ্চ তাপে ব্যবহার করা ঠিক নয়৷ তাই ধাতব চামচ বা খুন্তি ব্যবহার করে এই সব পাত্রে রান্না করা একেবারেই উচিত নয়৷
9
12
ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা নন-স্টিক প্যান কম বা মাঝারি তাপে ব্যবহার করলে সাধারণত নিরাপদ। তবে কোটিং নষ্ট হতে শুরু করলে সেটি বদলে ফেলা উচিত।
10
12
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভয় না পেয়ে সচেতন হওয়াই ভাল। ক্ষতিগ্রস্ত বা বেশি আঁচড় পড়া নন-স্টিক প্যান ব্যবহার করবেন না। কাঠ বা সিলিকন-এর তৈরি খুন্তি ব্যবহার করুন। প্যান বেশি গরম করবেন না। কোটিং উঠে গেলে নতুন প্যান ব্যবহার করুন।
11
12
অনেকে স্টেইনলেস স্টিল বা কাস্ট আয়রনের পাত্র ব্যবহারের পরামর্শও দিচ্ছেন, যেগুলিতে কৃত্রিম কোটিং থাকে না।
12
12
মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ—পানীয় জল, খাবার, এমনকি আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই তাতেও এর উপস্থিতি রয়েছে।