ফ্রান্স - ১ (এমবাপে-পেনাল্টি)
প্যারাগুয়ে - ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: রেকর্ডের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে তাড়া করছেন কিলিয়ান এমবাপে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আবার আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে ছুঁয়ে ফেললেন ফরাসি তারকা। ভারতীয় সময় রবিবার ভোররাতে ফিলাডেলফিয়াতে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স। টানা চারবার। পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র গোল এমবাপের। চলতি বিশ্বকাপে মোট সপ্তম। মেসিরও সাত গোল। বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের থেকে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে এমবাপে। মেসির মোট গোল সংখ্যা ২০। ফরাসি তারকার ১৯। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে খেলবে ফ্রান্স। এদিন জিতলেও, দলের খেলা চিন্তার রাখবে দিদিয়ের দেশঁকে। আগের ম্যাচে আক্রমণের ঝড় তোলা ফ্রান্স এদিন প্যারাগুয়ের রক্ষণে আটকে যায়। আগাগোড়া আধিপত্য থাকলেও, গোলের বেশি সুযোগ পায়নি। গোল লক্ষ্য করেও খুব বেশি শট নিতে পারেননি এমবাপে, অলিসে, ডেম্বেলেরা। অবশেষে পেনাল্টিতে খেলা অতিরিক্ত সময় গড়ায়নি। টাইব্রেকারে গেলে জার্মানি ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ঘটত কিনা বলা মুশকিল। তবে শেষপর্যন্ত আরও এক জায়ান্টকিলার হতে পারেনি প্যারাগুয়ে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময় গোল সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে। অলিসের পাস থেকে তাঁর প্রথম শট প্যারাগুয়ের গোলকিপারের গায়ে লাগে। ফিরতি শট তালুবন্দি করেন গিল।
ফরমেশনে কোনও পরিবর্তন ছিল না ফ্রান্সের। সামনে এমবাপেকে রেখে ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজান দিদিয়ের দেশঁ। অন্যদিকে রক্ষণ জমাট রেখে ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলান প্যারাগুয়ের কোচ। সামনে একা সিসে। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে বল পজেশন ফ্রান্সের। কিন্তু প্যারাগুয়ের পায়ের জঙ্গল ভেদ করে গোল লক্ষ্য করে কোনও শট নিতে পারেনি ফরাসিরা। প্রথম ৪৫ মিনিট ক্রমাগত আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে ফ্রান্স। অন্যদিকে পুরো সময়টা রক্ষণাত্মক ফুটবল প্যারাগুয়ের। একমাত্র লক্ষ্য ছিল গোল না হজম করা। তাতে সফল দক্ষিণ আমেরিকার দল। প্রথমার্ধের শেষে স্কোরলাইন গোলশূন্য।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে প্রথম সুযোগ ফ্রান্সের। ডেম্বেলের ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি এমবাপে। তার পাঁচ মিনিট পর কুন্ডের দুর্বল শট তালুবন্দি করেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে কোনের শট বক্সের ওপর দিয়ে যায়। খেলার প্রথম মিনিট থেকেই এমবাপের গায়ে ডাকটিকিটের মতো সেঁটে থাকেন জুয়ান জোস ক্যাসারেস। ফরাসি স্ট্রাইকারকে খেলা তৈরির জায়গা দেওয়া হয়নি। তাই একাধিকবার মাঝমাঠে নেমে যেতে দেখা যায় এমবাপেকে। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অলিসে-এমবাপে জুটিতে ফুল ফুটেছিল। এদিন দুই প্লেমেকারকে ডবল মার্কিংয়ে আটকে দেয় প্যারাগুয়ে। জার্মানির বিরুদ্ধে যেভাবে রক্ষণ সংগঠিত করে খেলেছিল, এদিন তারই পুনরাবৃত্তি। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের আদর্শ উদাহরণ। দলের দুই সেরা ফুটবলার আটকে যাওয়ায়, ডেম্বেলে, বারকোলাদের আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হত। কিন্তু প্রথমার্ধে সেটা হয়নি। বার দুয়েক বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নেন র্যাবিও। কিন্তু গিলকে বিপদে ফেলতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ওপেন ফুটবল হয়। আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে প্যারাগুয়েও। ম্যাচের ৫১ মিনিটে সেরা সুযোগ ফ্রান্সের। ফাঁকায় বল পান এমবাপে। সামনে একা প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল। কিন্তু ফরাসি তারকা শট নেওয়ার আগেই ক্লিয়ার করে দেন ক্যাসারেস। তার তিন মিনিটের মধ্যে আবার সুযোগ। কোনের দূরপাল্লার শট বাঁচান গিল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পরিবর্ত ফুটবলার ডুয়েকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন দিয়েগো গোমেজ। পেনাল্টির দাবি জানায় ফ্রান্সের প্লেয়াররা। প্রথমে খেলা চালিয়ে যান রেফারি। কিন্তু পরে VAR এ দেখার পর পেনাল্টি দেন। চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রথম পেনাল্টি। ম্যাচের ৭০ মিনিটে স্পট কিক থেকে একমাত্র গোল কিলিয়ান এমবাপে। পেনাল্টি মারার সময় থমকে যান। প্যারাগুয়ের কিপারকে বোকা বানিয়ে ডানদিকে বল রাখেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। এই গোলই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। কিন্তু সেই ঝাঁঝ ছিল না। ফ্রান্সের শেষ প্রহরীকে তেমন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারেনি।















