মরক্কো - ৩ (ঔনাহি-২, রাহিমি )

কানাডা - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে ফিরল চার বছর আগের চিত্র। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল অ্যাটলাস লায়ন্সরা। এবারও কি শেষ চার পর্যন্ত যেতে পারবে হাকিমিরা? সেটা জানতে আর দিন কয়েকের অপেক্ষা। কিন্তু শনিবার হিউস্টনে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোল হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে গেল মরক্কো। জোড়া গোল করেন আজ্জেদিন ঔনাহি। ম্যাচের ৫০ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ৮২ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচের ৯০+৮ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন সোফিয়ান রাহিমি। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের বিজয়ীর সঙ্গে খেলবে মরক্কো। 

প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। মরক্কোর দ্বিতীয় প্লেয়ার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে জোড়া গোলের নজির গড়েন ঔনাহি। ম্যাচের শুরুতেই দলের নায়ক ইসমাইল সাইবেরি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় ব্যাকফুটে চলে যায় মরক্কো। শুরুতে নড়বড়ে দেখায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দাপুটে ফুটবল কানাডার। প্রথম ৪৫ মিনিট ছিল বিশ্বকাপের আয়োজকদের। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে কানাডা। চমকে দেয় সবাইকে। ফেভারিট হিসেবে শুরু করেছিল মরক্কো। কিন্তু আক্রমণের ঝড় তোলে কানাডা। কোণঠাসা করে দেয় আফ্রিকার দেশকে। দাঁড়াতেই পারেনি হাকিমিরা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। 

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে মরক্কো। সব গোলই দ্বিতীয়ার্ধে। তবে একটা সময় পর্যন্ত লড়াইয়ে ছিল কানাডাও। ম্যাচের ৫০ মিনিটে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ঔনাহি। খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে গোল করেন। নিচু ফ্রিকিক বক্সে ভাসিয়ে দেন হাকিমি। তেকাঠিতে রাখতে ভুল করেননি আজ্জেদিন। চলতি বিশ্বকাপে হাকিমির দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট। পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় কানাডা। কিন্তু গোলের নিচে অনবদ্য মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বনু। ম্যাচের ৮২ মিনিটে ২-০ করেন ঔনাহি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল। ব্রাহিম ডিয়াজের পাস থেকে টপ নেট ফিনিশ ঔনাহির। জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফেরার কোনও সম্ভাবনা ছিল না কানাডার। আয়োজকদের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন সোফিয়ান রাহিমি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময় ব্রাহিম ডিয়াজের ক্রস থেকে ৩-০ করেন সাইবেরির পরিবর্তে নামা ফুটবলার। খুব যে নজরকাড়া ফুটবল খেলেছে তেমন নয়। কিন্তু কার্যকরী ফুটবল মরক্কোর। তার ফল মেলে। তুলে নেয় গোল। অসাধারণ ফুটবল না খেলেও যে ম্যাচ জেতা যায়, সেটা প্রমাণ করল মরক্কো।