আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনটে বল। রুদ্রমূর্তিতে বেথেল। ম্যাচ ইংল্যান্ডের। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারত-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ম্যাচের সংক্ষিপ্ত সারাংশ এটাই। এক ওভারে ২৯ রান দেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা রবি বিষ্ণোই। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচ। ১৬ ওভার পর্যন্ত ফেভারিট ভারত। বিশেষ করে মিডল ওভারে অক্ষর প্যাটেলের স্পেলের পর। কিন্তু আরেক স্পিনারের ভরাডুবিতে ম্যাচ হাত থেকে ফস্কে যায়। এক ওভারে দুটো নো বল। যা একজন স্পিনারের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ। জোড়া নো বলের পূর্ণ ফায়দা তোলেন ছন্দে থাকা জেকব বেথেল। মোমেন্টাম ফিরে পায় ইংল্যান্ড। 

দু'জন বাঁ হাতির বিরুদ্ধে বিষ্ণোই বল করতে আসা মাত্র একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মনে হয়েছিল, এই এক ওভার পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। একটা বড় ওভারের প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। বিষ্ণোইয়ের ওভারকেই বেছে নেন বেথেল। ১৭তম ওভারের প্রথম বলই নো বল। খেসারত দেন। ছক্কা হাঁকান বেথেল। পরের বলে আবার নো বল। আবার ছয়। ৩৯ বলে অর্ধশতরান সম্পূর্ণ করেন বেথেল। তার আগে পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকলেও হাত খুলতে পারেননি। কিন্তু ভারতীয় স্পিনার সেই সুযোগ করে দেন তাঁকে। এক ম্যাচে একজন বোলারের তিনবার একই ভুল ক্ষমাহীন অপরাধ। 

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি বিশাখাপত্তনমে ভারতের জার্সিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টি-২০ ম্যাচ খেলেন বিষ্ণোই। পাঁচ মাস দলের বাইরে থাকার পর ইংল্যান্ড সিরিজে দলে ফেরেন। চেস্টার লি স্ট্রিটে প্রথম টি-২০ ম্যাচে দলে থাকলেও, ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় বল করতে হয়নি। প্রত্যাবর্তনে টিম ইন্ডিয়াকে ডোবালেন ডান হাতি লেগ স্পিনার। বিষ্ণোই যে খলনায়ক, হাবেভাবে মেনে নেন শ্রেয়স। ম্যাচ শেষে কোনও রাখঢাক করেননি ভারতের নতুন নেতা। বিষ্ণোই প্রসঙ্গে শ্রেয়স বলেন, 'সবাই দেখেছে কী হয়েছে। সবাই জানে আমরা কোথায় ম্যাচটা হেরেছি। আমি নির্দিষ্টভাবে কারোর নাম নিতে চাই না। আমার মনে হয় নো বল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আশা করছি, ও এর থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। ১৭ ওভারে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। ওকে এর থেকে শিখতে হবে।'

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। আধুনিক ক্রিকেটে ভারতের প্রিমিয়াম টি-২০ স্পিনারদের মধ্যে নাম ছিল বিষ্ণোইয়ের। ২০২৩ ডিসেম্বরে আইসিসি ক্রমতালিকায় টি-২০ বোলারদের মধ্যে একনম্বরে ছিলেন বিষ্ণোই। আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসেরও প্রধান স্পিনার ছিলেন। সেই বছর আইপিএলে ১৬ উইকেট নেন। কিন্তু পরের দু'বছরে বরুণ চক্রবর্তীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যান। জাতীয় দলে জায়গা খোয়ান।

আইপিএলেও অধঃপতন। এলএসজি তাঁকে ছেড়ে দেয়। তারপরও নিলামে তাঁকে ৭.২ কোটি দিয়ে কেনে রাজস্থান রয়্যালস। নতুন ফ্রাঞ্চাজিতে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পান। বোলিং লেন্থে সমস্যা ছিল ডানহাতি স্পিনারের। ব্যাটাররা অনায়াসে চার, ছয় হাঁকাচ্ছিল। কিন্তু এক মরশুম ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে নিজের লেন্থ ঠিক করে আবার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ফিরেই সাফল্য পান। বল ওভারপিচিং না করে, লাইন এবং লেন্থ বজায় রাখার চেষ্টা করেন। বোলিং অ্যাকশনেও টেকনিক্যাল পরিবর্তন আনেন। বল করার সময় শরীর এবং রিস্টের পজিশন বদলান। ২০২৬ আইপিএলে রাজস্থানের হয়ে সাফল্য পেলেও, জাতীয় দলে ফিরতেই আবার যে কে সেই!