ইংল্যান্ড - ৩ (বেলিংহ্যাম, হ্যারি কেন-পেনাল্টি)

মেক্সিকো - ২ (কিউনিওনেস, জিমিনেজ-পেনাল্টি)

আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঁচ গোল। দুটো পেনাল্টি। একটা লালকার্ড। ৯০ মিনিটের নাটক। বিশ্বকাপের আদর্শ প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল। গায়ে কাটা দেওয়ার মতো ম্যাচে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অন্যতম সেরা ম্যাচ। টানটান উত্তেজনা। পরতে পরতে চমক। ইংল্যান্ড জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মেক্সিকোর ব্যবধান কমানো। একাধিক গোল মিস আয়োজকদের। জ্যারেল কোয়ানসার লালকার্ড। ম্যাচের ৩৬ মিনিট দশজনের ইংল্যান্ড। জোড়া পেনাল্টি। বিশ্বকাপের ম্যাচের সমস্ত রশদ ছিল এই ম্যাচে। এক মিনিটও চোখের পলক ফেলা যায়নি। শেষপর্যন্ত নব্বই মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩-২ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড। জোড়া গোল জুড বেলিংহ্যামের। পেনাল্টি থেকে গোল হ্যারি কেনের। 

মাত্র ৯৯ সেকেন্ড। ব্যাকফুটে থাকা ইংল্যান্ড হঠাৎই চালকের আসনে। সৌজন্যে জুড বেলিংহ্যাম। মাত্র ২ মিনিটের ব্যবধানে। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে পিকফোর্ডের থেকে বল পেয়ে অনেকটা জমি কভার করে বুকায়ো সাকাকে বল বাড়ান রাইস। ডানদিক থেকে তাঁর ক্রসে শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে হেডে গোল বেলিংহ্যামের। মেক্সিকো রক্ষণ গুছিয়ে ম্যাচে ফেরার আগে ২-০। এবারও নেপথ্যে জুড। বিপক্ষের প্লেয়ারের পা থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে বক্সের মধ্যে বেলিংহ্যামের উদ্দেশে বাড়ান হ্যারি কেন। দু'জন ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়ে, গোলকিপারকে কাটিয়ে ডান পায়ের গড়ানো শটে ব্যবধান বাড়ান রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। জোড়া গোলই ম্যাচের গতির বিরুদ্ধে গিয়ে। 

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। খেলা এক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। তারপর গ্যালারিতে বিরূপ পরিস্থিতি। স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল কিছুটা নড়বড়ে। ঝড়ের গতিতে শুরু করে মেক্সিকো। দুই উইং, মিডল করিডোর দিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলে হোম টিম। হ্যাটট্রিকে করার সুযোগ ছিল রাউল জিমিনেজের সামনে। কিন্তু গোলের নিশ্চিত দুটো সুযোগ মিস করেন। ৩৮ মিনিটের মধ্যে ইংল্যান্ড জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ায় মনে হয়েছিল, ম্যাচের দেওয়াল লিখন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দুরন্ত লড়াই মেক্সিকোর। সঙ্গে অনবদ্য প্রত্যাবর্তন। প্রথমার্ধে দুটো নিশ্চিত গোল বাঁচায় ইংল্যান্ড। একটি ফিস্ট করেন ইংলিশ গোলকিপার পিকফোর্ড। অন্যটি গোললাইন থেকে ফেরত পাঠান বেলিংহ্যাম। এল ট্রাইদের আক্রমণের ঝড় সামলাতে হ্যারি কেন, বেলিংহ্যামদেরও রক্ষণে নেমে দলকে বাঁচাতে দেখা যায়। 

ম্যাচের ৪২ মিনিটে কিউনিওনেসের গোলে ব্যবধান কমায় মেক্সিকো। সেটপিস থেকে গোল। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে পর্যন্ত ক্লিনশিট ছিল মেক্সিকোর। কিন্তু এদিন ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ে। ম্যাচের স্কোরলাইন দেখে খেলার গতি প্রকৃতি বোঝা যাবে না। গোল লক্ষ্য করে শটের পর শট নেয় মেক্সিকোর অ্যাটাকিং ফোর্স। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব। পাশাপাশি অনবদ্য ইংলিশ রক্ষণ। অন্যদিকে নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের গতির বিরুদ্ধে গিয়ে আবার ৪৯ মিনিটে ব্যবধান বাড়াতে পারত। ও রেইলির শট পোস্টে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধ ঘটনাবহুল। সামনে একা হ্যারি কেনকে রেখে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজিয়েছিলেন টুখেল। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জ্যারেল কোয়ানসা। গালার্ডোকে ফাউল করে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার। পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়। ফলে ছক বদলাতে হয় ইংল্যান্ডের কোচকে। সাকাকে তুলে নামান স্টোনসকে। 

খেলা পুরোপুরি একপেশে। আগাগোড়াই অগ্রাধিকার মেক্সিকোর। কিন্তু তারমধ্যে কুড়িয়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগায় থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। গর্ডনকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মেক্সিকোর গোলকিপার। ম্যাচের ৬০ মিনিটে হ্যারি কেনের গোলে ৩-১ এ এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। চলতি বিশ্বকাপে ষষ্ঠ গোল। মরশুমে ৭৩তম ইংল্যান্ডের অধিনায়কের। কিন্তু তারই ভুলে আবার ম্যাচে টিকে থাকার সুযোগ পায় মেক্সিকো। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান রাউল জিমিনেজ। বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করার সময় গুতিয়ারেজকে ফাউল করেন হ্যারি কেন। ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে দশজনের ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে মেক্সিকো। মুহুর্মুহু আক্রমণ। সামাল দিতে হিমশিম খায় রক্ষণ। গোটা ম্যাচে প্রায় ২০ বা তারও বেশি গোল লক্ষ্য করে শট। কিন্তু নৈপুণ্যের অভাব। মেক্সিকো সিটিতে যে দাপুটে ফুটবল খেলল এল ট্রাইরা, ম্যাচটা জেতা উচিত ছিল তাঁদেরই। তবেই 'পোয়েটিক জাস্টিস' হত। তবে রেজাল্ট নির্বিশেষে, জয় ফুটবলের।