আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেষটা হতে পারত আরও সুন্দর। আরও ভাল। কিন্তু সবার শেষ একরকম হয় না। নেইমার জুনিয়র হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেন। চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের তারকা। 

এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০১০ সালে শুরু হয়েছিল ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের স্বপ্নের দৌড়। প্রথম ম্যাচেই ছিল গোল। ১৬ বছর পরে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই নেইমার জানিয়ে দিলেন, ''চেষ্টা করেছিলাম আমি। এখন সব শেষ।'' ব্রাজিলের জার্সিতে জীবনের শেষ ম্যাচেও নেইমার গোল পেলেন। তিনি গোল করলেও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেল এদিনই। 

ব্রাজিলের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ৮০ গোল করে নেইমার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। তবুও ব্রাজিলকে জেতাতে পারেননি বিখ্যাত দশ নম্বর জার্সিধারী। 

শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। মাঠেই অঝোর ধারায় কাঁদতে শুরু করেন তিনি। সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁকে থামানো যায়নি। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোকে তিনি বলেন, "আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু, এখানেই আমার শেষ।"

আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানলেও ক্লাব ফুটবলে তিনি এখনও স্যান্টোসের হয়ে খেলছেন। 

হেক্সা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল ব্রাজিল। খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে সেলেকাওদের। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হল ব্রাজিলের। ম্যাচ শেষে  ব্রাজিলের কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি বলেন, "অবশ্যই সবাই হতাশ। আমরা অসাধারণ বিশ্বকাপ খেলিনি, তবে ভাল খেলেছি। আমার বিশ্বাস, আজকের ম্যাচে জয়ের দাবিদার ছিলাম আমরা।''

তিনি আরও বলেন, "এমন হার মেনে নেওয়া কঠিন। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে, নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে হবে। আমি মনে করি, এটাই শেষ নয়। বরং নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। এই দল ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।"

মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া অ্যানচেলোত্তির সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। 
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও পদত্যাগের ইঙ্গিত দেননি অ্যানচেলোত্তি। 

ব্রাজিল আবারও খেলবে। কিন্তু হলুদ জার্সিতে নেইমারকে যে আর খেলতে দেখা যাবে না।