পর্তুগাল - ৫ ( রোনাল্ডো-২, নুনো, খুশানভ -আত্মঘাতী, রাফা)

উজবেকিস্তান - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেসি পেরেছেন। পারলেন রোনাল্ডোও। ফাইভ স্টার পারফরমেন্স পর্তুগালের। মঙ্গলবার হিউস্টনে নিজের আগমনবার্তা দিলেন পর্তুগিজ তারকা। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ইতিহাস গড়েন লিও মেসি। এদিন সেই ইতিহাসে সামিল হলেন সিআরসেভেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে পরপর ছয় বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়লেন রোনাল্ডো। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেক। সেই থেকে প্রত্যেকবার বিশ্বমঞ্চে গোল রয়েছে পর্তুগিজ তারকার। রোনাল্ডো ছন্দে ফিরতেই জয়ে ফিরল পর্তুগাল। মঙ্গল রাতে মার্কিন মুলুকে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোল উড়িয়ে দিল পর্তুগাল। জোড়া গোল সিআরসেভেনের। ম্যাচের ৬ এবং ৩৯ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন। অনায়াসেই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। একাধিক সুযোগ মিস করেন। তবে এদিন আরও একটি কারণে রেকর্ডবুকে নাম তোলেন রোনাল্ডো। পর্তুগিজ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নজির গড়েন। ভাঙেন ইউসেবিওর রেকর্ড। তাঁর গোল সংখ্যা ছিল ৯। এদিন পর্তুগালের জার্সিতে বিশ্বকাপে নিজের ১০ নম্বর গোল তুলে নেন রোনাল্ডো। 

ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর সমালোচনার ঝড়ে বয়ে যায় পর্তুগালের ফুটবলাররা। কিন্তু এদিন আবার স্বমহিমায় ফেরে। চেনা ছন্দে পাওয়া যায় পর্তুগালকে। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজান রবার্তো মার্টিনেজ। সামনে একা রোনাল্ডো। প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল মার্টিনেজের দলের। শুরু থেকেই বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া উজবেকিস্তানকে চেপে ধরে পর্তুগাল। প্রথম সুযোগ ৩ মিনিটের মাথায়। ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট প্রতিহত হয়। অবশ্য বেশিক্ষণ গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি পর্তুগালকে। ৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন রোনাল্ডো। ডানদিক থেকে পেড্রো নেটোর ক্রস। ডান পায়ের শটে প্রথম টাচেই গোল। অনবদ্য গোল। রেকর্ডবুক নাম তোলা মাত্র সেই সিউ সেলিব্রেশন। ম্যাচের ১৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান নুনো মেন্ডিস। ফ্রিকিক থেকে গোল করেন। প্রথমার্ধের শেষেই ৩-০ গোল এগিয়ে যায় পর্তুগাল। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন রোনাল্ডো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের থেকে বল পেয়ে, ডান পায়ের কোনাকুনি শটে দুর্দান্ত প্লেসিং। ম্যাচের ৩১ মিনিটে দূরপাল্লার শটে দুর্দান্ত গোল করেছিল উজবেকিস্তান। কিন্তু ফাউলের জন্য গোল বাতিল হয়ে যায়। 

বিশ্বকাপে যে দলগুলো রয়েছে, তাঁদের মধ্যে পর্তুগালের মিডফিল্ড সবচেয়ে ক্রিয়েটিভ। এদিন তার প্রমাণ মেলে। অসংখ্য পাস। একাধিক সুযোগ তৈরি হয়। গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ পেয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা। ফ্রিকিকে সৃষ্টিশীলতা। ফ্রিকিক নেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। আলতো লব করেন। মানবপ্রাচীর পেরিয়ে গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে যান রোনাল্ডো। শটও নেন। কিন্তু অনবদ্য সেভ উজবেকিস্তানের গোলকিপারের। ম্যাচের ৬০ মিনিটে খুশানোভের আত্মঘাতী গোল। ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

ম্যাচের ৭৩ মিনিটে আবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ। নুনো মেন্ডিসের পাস থেকে বল বাইরে মারেন রোনাল্ডো। তার এক মিনিটের মধ্যে বিপক্ষের গোলকিপারের ভুলে আবার সুযোগ। কিন্তু শেষপর্যন্ত বাঁচিয়ে দেন গোলকিপারই। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ৫-০। গোল করেন পরিবর্ত ফুটবলার রাফা লিও। ডান পায়ের জোরাল শটে নিখুঁত প্লেসিং। কঙ্গো ম্যাচে স্বার্থপর ফুটবলের জন্য রোনাল্ডোর সমালোচনা করেছিলেন থিওরি অরি। এদিন পর্তুগিজ তারকা যেন এক অন্য মানুষ। পুরোপুরি টিমম্যান। সতীর্থদের গোলের উৎসবেও প্রাণ খুলে মাতেন। যা সচরাচর দেখা যায় না। একটি ড্র এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে মার্টিনেজের দলকে। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ব্রাজিলের পাশাপাশি বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদারের তালিকায় ঢুকে পড়ল পর্তুগালও।