ভারতের শেয়ার বাজারে খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি। বর্তমানে যে সুবিধা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ, তা এবার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। এই সুবিধার নাম ডাইরেক্ট মার্কেট অ্যাক্সেস।
2
12
সেবির প্রস্তাব কার্যকর হলে খুচরো বিনিয়োগকারীরাও ব্রোকারের ডিলারের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমে অর্ডার পাঠাতে পারবেন। এর ফলে ট্রেডিং প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকর হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
3
12
বর্তমানে এই সুবিধা প্রধানত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কিছু নির্দিষ্ট বাজার অংশগ্রহণকারীদের জন্য উপলব্ধ। এই ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করে সরাসরি এক্সচেঞ্জে ক্রয় বা বিক্রির অর্ডার দিতে পারেন। ফলে অর্ডার কার্যকর হওয়ার সময় কমে এবং বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
4
12
সেবি জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে এখন এই সুবিধা আরও বিস্তৃতভাবে চালু করা সম্ভব। তাই বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে বাজারের নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
5
12
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্রোকারদের এখনও ঝুঁকি, অর্ডার পর্যবেক্ষণ এবং গ্রাহক যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সরাসরি অর্ডার দিলেও বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্রোকারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
6
12
সেবি পণ্য ডেরিভেটিভস বাজারেও এই সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে কিছু নিয়মে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা উল্লেখ রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সেই উল্লেখ সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, ফলে এক্সচেঞ্জের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সব যোগ্য বিনিয়োগকারী এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
7
12
এছাড়া সেবি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে কোনও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক যদি ক্লায়েন্টের হয়ে অর্ডার দেন, তাহলে তাকে সেবির কাছে নিবন্ধিত হতে হয়।
8
12
নতুন প্রস্তাবে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ক্লায়েন্টদের পক্ষ থেকে নিযুক্ত ম্যানেজারদের কাজের দায়ভার সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের উপরই থাকবে।
9
12
বাজার নিয়ন্ত্রক আরও জানিয়েছে, শেয়ার বাজার ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মকে একত্রিত করে একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ডিজাস্টার রিকভারি, সিস্টেম অডিট এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে।
10
12
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতেও বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন, উন্নত ফায়ারওয়াল ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক বিভাজন এবং আধুনিক এনক্রিপশন প্রযুক্তির ব্যবহার।
11
12
বর্তমানে এই প্রস্তাবগুলি জনমত সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে। বাজার অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত নেওয়ার পর সেবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
12
12
যদি এই প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভারতের পুঁজিবাজারে খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বাজার আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে।