আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিরাট কোহলি এবার সরাসরি মুখ খুললেন আইপিএলের বাড়তে থাকা 'ক্যামেরা সংস্কৃতি' নিয়ে।
দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের বাইরে অতিরিক্ত প্রচার, পাপারাজ্জিদের নজর এবং ব্যক্তিগত জীবনেও নাক গলানোর চেষ্টা করেছে আলোকচিত্রীদের ক্যামেরা। তবে এবার তাঁর অভিযোগ মাঠের বাইরের নয়, বরং মাঠের ভিতরের পরিবেশ নিয়েই।
আইপিএলের ডিজিটাল সম্প্রসারণের ফলে এখন প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট, ফ্যান পেজ ও বিহাইন্ড-দ্য-সিন ভিডিও তৈরিতে আরও বেশি আগ্রাসী। আর সেই বাড়তি ক্যামেরার উপস্থিতিই ক্রিকেটারদের স্বাভাবিক প্রস্তুতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন কোহলি।
আরসিবি-র পডকাস্টে সঞ্চালক মায়ান্তি ল্যাঙ্গারের সঙ্গে কথোপকথনে কোহলি বলেন, ''আমি খেলার চাপ ভালবাসি। কিন্তু খেলার বাইরের অতিরিক্ত চাপ মোটেও উপভোগ করি না। সোশ্যাল মিডিয়া এখন দলগুলোর বাণিজ্যিক দিক ও ফ্যান এনগেজমেন্টের বড় অংশ, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু সবকিছুরই একটা সীমা থাকা দরকার।''
কোহলির অভিযোগ, অনুশীলনে নামলেই একাধিক ক্যামেরা তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। ফলে নিজের খেলা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার স্বাধীনতাও কমে যাচ্ছে।
কোহলি বলছেন, ''প্র্যাকটিসে ঢুকেই যদি ছ'টা ক্যামেরা আমাকে অনুসরণ করে, সেটা মোটেও স্বস্তিকর নয়। একজন খেলোয়াড় হিসেবে শান্তিতে নিজের খেলায় কাজ করার স্বাধীনতা দরকার। কিন্তু এখন সবকিছুই ক্যামেরাবন্দি হচ্ছে, বিশ্লেষণ হচ্ছে।''
তিনি আরও যোগ করেন,
''নেটে আমি কী করছি, কী চেষ্টা করছি, সেটা নিয়ে পরের দিন আলোচনা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু আমাকে বিচার করা উচিত মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে, প্রস্তুতির মুহূর্ত দিয়ে নয়।''
কোহলির মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর উচিত ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক স্বস্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া।
''সবসময়ে ক্যামেরার সামনে থাকতে একজন ক্রিকেটার স্বচ্ছন্দ কি না, সেটা বিবেচনা করা দরকার। সত্যি বলতে, বিষয়টা এখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।'' ।
শুধু অনুশীলন নয়, ব্যক্তিগত কথোপকথনেও যে ক্যামেরা ও কনটেন্ট তৈরির হস্তক্ষেপ বাড়ছে, তারও উদাহরণ দেন কোহলি। তিনি জানান, সম্প্রতি েন উইলিয়ামসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত আলোচনা চলাকালীন সম্প্রচারের জন্য ব্যবহৃত ‘চম্পক’ নামের একটি রোবোটিক কুকুর তাঁদের চারপাশে ঘুরতে থাকে।
কোহলি আরও বলেন, ''আমি আর উইলিয়ামসন সিরিয়াস একটা কথা বলছিলাম। তখন সেই রোবটটা এসে ঘুরঘুর করছে। আমি অপারেটরকে বললাম, দয়া করে এটা সরান, আমাকে শান্তিতে কথা বলতে দিন। ও আমার বহুদিনের বন্ধু। কিন্তু এখন আমাদের দেখা হওয়াটাও খবর হয়ে যায়।''
শেষে বিরক্তির সুরেই ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বলেন, ''ড্রেসিংরুম থেকে মাঠ, আমি কারও সঙ্গে কথা বললেই সেটা খবর হয়ে যায়। আমার মনে হয়, এটা এখন একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে।''
তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি কোহলি। টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পরই তিনি দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন। কেকেআর-এর বিরুদ্ধে আইপিএলে নিজের রেকর্ড নবম শতরান করে আবারও দলকে শীর্ষে পৌঁছে দেন তিনি।















