আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ভাল নেই প্রাক্তন ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলি। রীতিমতো অসুস্থ তিনি। এটা ঘটনা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় জর্জরিত কাম্বলি। আর্থিক সমস্যাও রয়েছে। জানা যায়, বছর দেড়েক আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর একটু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু ফের অসুস্থ তিনি। যা জানা গিয়েছে, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে প্রাক্তন ক্রিকেটারের। যার জেরে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে ক্রমশ।


২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কাম্বলি। জানা গিয়েছিল, প্রস্রাবের সংক্রমণে ভুগছিলেন। তখনই একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার তাঁর পাশে দাঁড়ান। আর্থিক সহায়তাও করেন। এখন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু মার্কাস কুটো জানিয়েছেন, কাম্বলির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। 
কাম্বলির ওই বন্ধু কুটো জানিয়েছেন, ‘‌আমরা ওর বন্ধুদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছি। মূলত প্রাক্তন ক্রিকেটাররাই সেখানে রয়েছেন। কেউ নাম প্রকাশ না করে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করছেন। ওর স্মৃতিশক্তি খুব একটা ভাল অবস্থায় নেই। তবে স্বস্তির বিষয়, গত ছ’মাসে তার আর অবনতি হয়নি। কখনও কখনও ওর কিছু মনে পড়ে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই সমস্যা হয়। বিনোদের মস্তিষ্কে একটি ক্লট রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ওর ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’‌


তিনি আরও জানিয়েছেন ‘‌এক বিখ্যাত নিউরোসার্জন জানিয়েছেন, বিনোদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পর্যায়ে ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এখন ও মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছে। তবুও মাঝেমধ্যে সিগারেট চায়। বর্তমানে তাঁর সমস্যা মস্তিষ্কে। যার প্রভাবেই শরীরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।’‌ 


কাম্বলির বন্ধু আরও বলেছেন, ‘‌বলবিন্দর সিং সান্ধু বিষয়টি দেখছিলেন। ১৯৮৩ সালের দল মিলে ওকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়। পনভেলের এক চিকিৎসক ১১ মাসের একটি রিহ্যাব পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, সেই খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। কপিল দেব ওকে হরিয়ানার রিহ্যাব সেন্টারে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন মনে হয়েছিল সেটা সমাধান নয়। চিকিৎসকরা জানান, ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কার কারণে ভবিষ্যতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।’‌


আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন কাম্বলি। এর আগে ২০১৩ সালে দু’বার অস্ত্রোপচার হয়েছিল কাম্বলির। তখন চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন শচীন তেন্ডুলকার। প্রসঙ্গত, দেশের হয়ে ১০৪টি ওয়ানডে ও ১৭টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। টেস্টে টানা দুটি দ্বিশতরান করেছিলেন। সেই কাম্বলিই এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।