ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব - ৯
চাঁদনী স্পোর্টিং ক্লাব - ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, 'মর্নিং শোজ দ্য ডে'। তাঁরা যে লম্বা রেসের ঘোড়া, সেটা দেখিয়ে দিল ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের মেয়েরা। কন্যাশ্রী কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনে অভিষেক ম্যাচেই ন'গোল। চ্যাম্পিয়নদের মতো শুরু করল ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব। এতদিন কন্যাশ্রী কাপ বলতেই ইস্টবেঙ্গল এবং শ্রীভূমি স্পোর্টস ক্লাবের নাম উঠত। এবার তাঁদের টক্কর দিতে চলে এল ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব। কন্যাশ্রী কাপের প্রথম ম্যাচে চাঁদনী স্পোর্টিং ক্লাবকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিল পূজা কর্মকার, অনিতা কুমারীরা। প্রথমার্ধে চার গোল। বিরতির পর আরও পাঁচ। জোড়া গোল করেন পূজা কর্মকার, তনুশ্রী রায়, তানিয়া কান্তি। বাকি তিন গোল অনিতা কুমারী, কাই রুমি এবং সারদা মান্ডির। তবে বিরাট জয়ের পরও আফশোস কোচ প্রশান্ত ভট্টাচার্যের গলায়। জানান, আরও ৭-৮ গোল হওয়া উচিত ছিল। এদিন যেভাবে খেলেছে ইউকেএসসি, ১৫-১৬ গোল হতেই পারত। একই গ্রুপে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল এবং শ্রীভূমি। শুরুতেই বড় জয় দুই তাবড় তাবড় ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলার আগে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, সেটা মেনে নিলেন কোচ।
সোমবার জিডি ব্লকের মাঠে পুরোপুরি একতরফা ফুটবল। ছোট ছোট পাস খেলে একাধিকবার বিপক্ষের গোল মুখ খোলে। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেয়নি ইউকেএসসি। খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয় চাঁদনীকে। দুরন্ত ফুটবল প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দলের। বাংলার ফুটবলে ফিনিক্স পাখি ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব। আবির্ভাবেই ছেলেদের এবং মেয়েদের ফুটবলে বাজিমাত। আইডব্লুএল ওয়ানের যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এবার শুরু করেছে ইউকেএসসির মেয়েরা। তার শুরুতে একশো শতাংশ সফল। নজর কাড়েন অনিতা কুমারী, কাই রুমি, অনি তায়াং, তানিয়া কান্তিরা। সদ্য মাতৃবিয়োগ হয়েছে আনির। কিন্তু মাঠে একশো শতাংশ দায়বদ্ধতা। শোক ভুলে এদিন নিজেকে উজাড় করে দেন অরুণাচলের স্ট্রাইকার। এদিন চাঁদনীকে নাকানিচোবানি খাওয়ায় ইউনাইটেড।
ম্যাচের ৪ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল। দলকে এগিয়ে দেন কাই রুমি। ব্যবধান বাড়াতে মাত্র ৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ম্যাচের ৭ মিনিটের মাথায় ২-০। বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন অনিতা কুমারী। পাঁচ মিনিট পরে আবার গোল। ১২ মিনিটে ৩-০। গোল করেন পূজা কর্মকার। ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় আবার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু পূজার দূরপাল্লার শট বাইরে যায়। তার কিছুক্ষণ পর অফসাইডের জন্য গোল বাতিল হয় ইউকেএসসির। ম্যাচের ২৬ মিনিটে ৪-০। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন পূজা। বিরতির ঠিক আগে ক্রসপিসে বল লাগে। নয়তো ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ। দুপুরে গরমের তোয়াক্কা না করেই দাপুটে ফুটবল ইউকেএসসির মেয়েদের। বিরতির পর সূর্যের তেজ কিছুটা কমায় আরও আগ্রাসী ফুটবল। মুহুর্মুহু আক্রমণে বিপক্ষের রক্ষণে কম্পন ধরিয়ে দেয়। দুই উইং কাজে লাগানোর পাশাপাশি মিডল করিডোর দিয়ে আক্রমণ। কমপ্লিট ফুটবল। প্রথমার্ধে ইউকেএসসির কিপার দর্শকের ভূমিকা পালন করে। কোনও আক্রমণ ছিল না চাঁদনীর। দ্বিতীয়ার্ধে দুটো ভাল সেভ। বিপক্ষের প্লেয়ারের দূরপাল্লার শট ক্রসপিসে লাগে। ফিরতি শট বাঁচান ইউকেএসসির গোলকিপার বীথিকা রায়। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম গোল ৫৩ মিনিটে। নিজের প্রথম এবং দলের হয়ে পঞ্চম গোল করেন তানিয়া কান্তি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ৬-০ করেন সরিদা মান্ডি। ৮৫ মিনিটে ফের গোল তানিয়ার। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম। ম্যাচের ৮৬ এবং ৮৮ মিনিটে যথাক্রমে ইউকেএসসির হয়ে অষ্টম ও নবম গোল তনুশ্রী রায়ের।ম্যাচের সেরা কাই। এদিন ইউকেএসসির সমর্থনে হাজির ছিল প্রায় তিনশো সাপোর্টার। ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্লাব সচিব দেবদূত রায়চৌধুরী সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
