আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৩ সালের কিংস কাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ইরাক। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষে খেলার ফল দাঁড়ায় ২-২। যা প্রমাণ করে দুই দলের লড়াই হয়েছিল তুল্যমূল্য। তবে টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে দিয়েছিল ইরাক।

তিন বছর পর সেই ইরাকই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল। আর ভারতীয় ফুটবল যেন এখনও একই জায়গায় আটকে রয়েছে। মঙ্গলবার হংকংকে ২-১ গোলে ভারত হারালেও, পরদিনই খবর আসে ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরাক। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ইরাক।

ম্যাচের শুরুতেই, প্রথমার্ধের দশ মিনিটে আলি আল-হামাদির গোলে এগিয়ে যায় ইরাক। ৩৮ মিনিটে মইজেস পানিয়াগুয়ার গোলে সমতা ফেরায় বলিভিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে আয়মান হুসেইনের গোল ইরাককে আবার এগিয়ে দেয়, এবং সেই লিড ধরে রেখেই তারা জয়ের সঙ্গে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে।

এর আগে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ইরাক। তবে সেবার গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। আরও আগে, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েও নাম প্রত্যাহার করেছিল তারা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালের সেই ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে খেলা ইরাক দলের অনেক ফুটবলারই এখনও এই দলের অংশ। সেই ম্যাচে ১৬ মিনিটে নাওরেম মহেশের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। ২৮ মিনিটে ইরাক সমতা ফেরায়। ৫১ মিনিটে জালাল হাসানের আত্মঘাতী গোলে আবার এগিয়ে যায় ভারত। তবে ৮০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান আয়মান হুসেইন। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ভারতের ব্র্যান্ডন ফার্নান্দেজ গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫-৪ ব্যবধানে জয় পায় ইরাক।

ভাবলে অবাক লাগে,যে দলকে ভারত ৯০ মিনিট ধরে আটকে রাখতে পেরেছিল, সেই ইরাকই আজ বিশ্বকাপের টিকিট পাকা করে ফেলল। ভারতীয় ফুটবল যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়েছে।