আজকাল ওয়েবডেস্ক: তাঁর গোল, তাঁর উদযাপন এখন আইকনিক হয়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে।
লাল-হলুদ সমর্থকরা বলে থাকেন, ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে তিনি নাকি ক্ষিপ্ত চিতার মতো ছিলেন।
বিকাশ পাঁজির মতো প্রাক্তন তারকা বলে ফেলেন, ও অনেকটা আমাদের সময়ে সুদীপ চ্যাটার্জির মতো খেলে।
এত কথা যাঁর সম্পর্কে বলা হচ্ছে তিনি মহম্মদ রশিদ। প্যালেস্তাইনের সিংহ।
ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য সুখবর। পরের মরশুমেও মাঝমাঠের মায়েস্ত্রো লাল-হলুদ জার্সিতে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করবেন।
২২ বছর পরে অধরা মাধুরী এসেছে লেসলি ক্লডিয়াস সরণীর ক্লাবে। অস্কার ব্রুজোঁ সেই স্বপ্নের সওদাগর। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন ক্লাবকে, তিন বিদেশিকে পরের মরশুমেও রাখতে হবে। কেভিন সিবিয়ে, মিগুয়েল ও রশিদ--এই তিন বিদেশির কথাই বলেছিলেন আইএসএল জয়ী কোচ। সেই মতোই রশিদের সঙ্গে কথা পাকা করে ফেলে ইস্টবেঙ্গল।

রশিদ ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের হৃদয়ে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে খেলা যখন ১-১, ঠিক তখন প্যালেস্তাইনের তারকা ফুটবলার বক্সের ভিতরে শরীর ছুড়ে দিয়ে গোল করেন। তার পরে সোজা ছুটে যান দর্শকদের মাঝে। সেই উদযাপন এখনও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের রক্তের গতি বাড়িয়ে দেয়।
প্যালেস্তাইনের মহম্মদ রশিদ যখন বল পায়ে মাঝমাঠ চিরে এগিয়ে যান, তখন মনে হয় তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন। তাঁর প্রতিটি পাসে লুকিয়ে থাকে উদ্বাস্তু শিবিরের দীর্ঘশ্বাস। প্রতিটি ট্যাকলে থাকে জীবনের জয়গানের শব্দ।
শৈশবের রাস্তাঘাট তাঁকে শিখিয়েছে—মাটি যতই রুক্ষ হোক, স্বপ্নের বীজ ঠিক জন্মগ্রহণ করে।
প্যালেস্তাইনের ধুলো মাখা রাস্তা থেকে কলকাতার লাল-হলুদ গ্যালারি, এই পথচলা শুধু একজন ফুটবলারের নয়, এটি প্রতিকূলতাকে জয় করে উঠে আসা এক যোদ্ধার গল্প। সেই যোদ্ধাকে ফের লাল-হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে। গ্যালারি থেকে তাঁর নামে উঠবে জয়ধ্বনি, ''রশিদ-রশিদ।''















