আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডার্বির মিথ তিনি। কখনওই হারেননি ডার্বি। কলকাতার তিন প্রধানে দাপিয়ে খেলেছেন একসময়ে। আশিয়ান কাপে দেবজিৎ ঘোষের মুখের ভিতরে মুখ ঢুকিয়ে কৃত্রিম ভাবে শ্বাসপ্রক্রিয়া চালিয়ে গিয়েছিলেন। সেই দৃশ্য কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের চোখে এখনও ভাসে। যাঁর সম্পর্কে এত কথা বলা হল তিনি ডগলাস দ্য সিলভা। বিশ্বকাপে ব্রাজিল প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে মরক্কোর কাছে।  পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কোনওক্রমে ড্র করে। ভিনি জুনিয়রদের খেলা দেখে ব্রাজিলীয় ডগলাস ময়নাতদন্ত করতে বসেছেন।  

তাঁর কথায়, প্রথম ম্যাচ বলে ব্রাজিল হয়তো নার্ভাস ছিল। তাই প্রথমার্ধে ফুটবলাররা ঠিকমতো পাস করতে পারেননি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তনের পর ব্রাজিল অনেক বেশি সংগঠিত ও কার্যকরী ফুটবল খেলতে শুরু করে। 

অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার পরিপূর্ণ ডগলাসের। মরক্কোর গোল করা দেখে তিনি বলেন, ''প্রথমার্ধে দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারই আক্রমণে উঠে যাচ্ছিল, কিন্তু রক্ষণে ফিরে আসার ক্ষেত্রে হয়ে পড়ছিল শ্লথ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন ভারসাম্যহীনতা বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।'' 

ডগলাসের মতে, এই ধরনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই প্রতিপক্ষ দল মাঝমাঠ ও ডিফেন্সের ফাঁক ব্যবহার করে আক্রমণ তৈরি করে। এবং সেই ভাবেই মরক্কো গোল করে গিয়েছে। 

ডগলাস আরও বলেন, একই ধরনের ভুল আগেও করেছে ব্রাজিল। তাঁর মতে, এটি নতুন কোনও সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই এই রক্তাল্পতা রয়েছে ব্রাজিলের খেলায়। পরের ম্যাচগুলোয় এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে ব্রাজিলকে। 

ডগলাস বলেন, ব্রাজিল মিস পাস বেশি করেছে। হয়তো প্রথম খেলা বলেই ফুটবলাররা নার্ভাস ছিল। মিস পাস বেশি করলে দলের আক্রমণ বুনোট বাঁধে না। তিনি মনে করেন এন্ড্রিকের মতো শক্তিশালী এবং ডিফেন্স ভাঙার মতো একজনকে নামালে কাজ দিত। 

দলের প্রস্তুতির দিকেও আলো ফেলেন ডগলাস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি প্রয়োজন। কিন্তু কার্লো অ্যানচেলোত্তিকে দেরিতে কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি ইতালীয় কোচ।  

ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ দেখার পরে ডগলাস মনে করেন যত দ্রুত সম্ভব নেইমার যেন চোট সারিয়ে মাঠে ফেরেন। নেইমারের বুদ্ধিদীপ্ত পাস এখন দরকার ব্রাজিলের।