আজকাল ওয়েবডেস্ক: অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন শনিবার তাদের বিশেষ সাধারণ সভায় জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইন গ্রহণের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করেছে। তবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের নতুন বাণিজ্যিক পার্টনার নির্বাচনের বিতর্কিত বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন ১৯ জন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ৩২ জন সদস্য রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধি এবং ফিফা ও এএফসি-এর প্রতিনিধিরাও। 

তবে এআইএফএফ-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের ভোটাধিকার নেই এবং তারা কোনও সদস্য সংস্থার প্রতিনিধিত্বও করতে পারেন না।

সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ''জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইন ২০২৫ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা শেষে সাধারণ সভা সর্বসম্মতভাবে তা অনুমোদন করেছে।''

ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের  চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত জানিয়েছেন, নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআইএফএফ-এর বর্তমান সংবিধান পুনর্গঠন করা হবে। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পুরনো সংবিধান কার্যত আর প্রযোজ্য থাকবে না।

তিনি আরও জানান, ''নতুন কাঠামোর অধীনে পুরো সংবিধান নতুন করে তৈরি করা হবে এবং ৩০ জুনের মধ্যে তা চূড়ান্ত হওয়ার আশা রয়েছে।''

আইএসএলের নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার নির্বাচন নিয়ে লন্ডন-ভিত্তিক জিনিয়াস স্পোর্টসের নাম উঠে আসে। তারা আগামী ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে ১৫+৫ বছরের জন্য বছরে প্রায় ২১২৯ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তবে আইএসএল ক্লাবগুলো একটি ভিন্ন মডেল প্রস্তাব করেছে। তারা চায় লিগের ৯০ শতাংশ অর্থনৈতিক অধিকার ক্লাবগুলোর হাতে থাকুক এবং এআইএফএফ  শুধুমাত্র ১০ শতাংশ পায়। পাশাপাশি জিনিয়াস স্পোর্টসকে শুধু ডেটা ও প্রযুক্তি পার্টনার হিসেবে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এআইএফএফ-এর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মাস্টার রাইটস অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে দু'টি সংস্থার কাছ থেকে বিড পাওয়া গিয়েছে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন নির্বাহী কমিটিকে দেওয়া হয়েছে, যারা আলোচনার পর বিষয়টি আবার সাধারণ সভায় উপস্থাপন করবে।

সুব্রত দত্ত আরও জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণ সভাতেই নেওয়া হবে এবং তার পরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাক্তন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল প্যাটেল বৈঠকে প্রস্তাব দেন, সম্ভাব্য বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হোক।

এছাড়াও সংবিধানের ২৫.৩ (সি) ও (ডি) ধারা নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে বলা ছিল রাজ্য সংস্থার পদে থাকা ব্যক্তি এআইএফএফে একসঙ্গে পদে থাকতে পারবেন না। তবে নতুন আইনি কাঠামোর কারণে এই নিয়মগুলো আর প্রযোজ্য হবে না বলেও উল্লেখ করেন সুব্রত দত্ত।

সভায় সদস্য সংস্থাগুলোর জন্য খসড়া সংবিধান নিয়েও আলোচনা হয় এবং তাদের ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত মতামত জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে।