আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২২ বছরের খরা কাটিয়ে সর্বভারতীয় লিগ জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। খেতাব জেতার পর থেকেই উৎসবে মেতেছে সমর্থকরা। শুক্রবার ক্লাবে সমর্থকের ঢল নামে। এখনও জয়ের আবহে ক্লাব। তবে তারমধ্যেই উঠে আসছে কয়েকটি অপ্রীতিকর প্রশ্ন। যা উদ্বিগ্ন করবে কর্তা, ফুটবলার থেকে শুরু করে সমর্থকদের। আগের সরকারের সাহায্যে ইনভেস্টর হিসেবে আসে ইমামি। সম্প্রতি রাজ্যে পালা বদল ঘটেছে। আগামী বছরও এই সংস্থা ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টর থাকবে কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ময়দানে কান পাতলে বেশ কয়েকদিন ধরেই ইমামির সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের গাঁটছড়া ভাঙার খবর শোনা যাচ্ছে। যদিও এদিন সেটা অস্বীকার করেন লাল হলুদের কর্তারা। দেবব্রত সরকার বলেন, 'আমরা এমন কিছু শুনিনি। জানিও না। ইমামির ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে সঠিক তথ্য নেই। ওরা আলোচনায় বসতে চাইলে বসব।' 

আইএসএল শেষ হওয়ার পর থেকেই অস্কার ব্রুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মরশুমের মাঝপথেই লাল হলুদের স্প্যানিশ কোচ জানিয়ে দেন, এটাই ইস্টবেঙ্গলে তাঁর শেষ মরশুম। যদিও আইএসএল জয়ের পর অনেকটাই সুর নরম করেন। জানান, ইস্টবেঙ্গল কর্তারা চাইলে, আলোচনা করতে রাজি তিনি। অস্কার বলেন, 'আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে গোটা মরশুমে আমি যা বলেছি, সেটাই বলব। আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রস্তাব পাচ্ছি। তবে ক্লাব যদি ১ জুন কথা বলতে চায়, আমি আনন্দের সঙ্গে বলব। আর যদি ক্লাবের কোনও প্ল্যান না থাকে, তাহলে কিছু করার নেই। আর কথা এগোবে না।' শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা জানিয়ে দেন, অস্কারকে রাখতে তাঁরা আগ্রহী। শুক্রবার রাতেই ছুটি কাটাতে গোয়ায় গিয়েছেন। ফিরলে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। এই প্রসঙ্গে দেবব্রত সরকার বলেন, 'ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই কোচ অস্কার ব্রুজোকে রাখতে চায়। তিনি গোয়া গিয়েছেন। ফিরে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন। আমরা অস্কারকে রেখে দিতে অতি আগ্রহী।' 

এদিন জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার ছাড়েনি মোহনবাগান। এই প্রসঙ্গ উঠতেই, লাল হলুদ কর্তারা জানিয়ে দেন, আনোয়ার আলি বাদে সবাইকে জাতীয় দলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারের চোট থাকায় যায়নি। দেবব্রত সরকার বলেন, 'অন্য ক্লাবে কী হয়েছে সেটা নিয়ে আমরা আগ্রহী নই। আমাদের আনোয়ার বাদে সবাই গিয়েছে। আনোয়ারের চোটের বিষয়টা আগেই আমরা জানিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের কাছে দেশের ফুটবল সবার আগে। দেশের ফুটবল না এগোলে, ক্লাব ফুটবল কখনই এগোবে না। এটাই আমাদের পরম্পরা।'

আইএসএল জেতার পর মোহনবাগান তাঁবুতে ট্রফি আসেনি, নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গোয়েঙ্কা হাউজে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে কিশোর ভারতী থেকে ট্রফি সরাসরি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে ঢোকে। এই প্রসঙ্গ উঠতেই মোহনবাগান কর্তাদের কটাক্ষ লাল হলুদ কর্তাদের। দেবব্রত সরকার বলেন, 'যে চুক্তি নিয়ে এসেছিল, সেটাতে আমাদের ক্লাব সই করতে পারে না। বাধা, বিপত্তি, সমস্যা থাকবে। সেটাকে অতিক্রম করাই কাজ। আমরা সঞ্জীব গোয়েঙ্কার থেকে প্রথম প্রস্তাব পেয়েছিলাম। আমরা ওনার শর্তাবলী মানতে পারিনি। উদ্বাস্তুর ক্লাব যারা রক্ত দিয়ে তৈরি করেছে, তাঁদের থেকে হস্তান্তর করে কাউকে দিয়ে দেব, এটা আমরা হতে দিতে চাইনি। তাই ওনার সঙ্গে চুক্তি করিনি।' মোহনবাগান কটা আইএসএল জিতেছে, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সংবর্ধনা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। পাশাপাশি জানানো হয়, ১ অগাস্ট ইস্টবেঙ্গল দিবসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এবার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বদলে নেতাজি ইন্ডোরে অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা কর্তাদের।