আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগের ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি।

রবিবার কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিজের নির্ধারিত চার ওভারও এদিন শেষ করতে পারেননি তিনি। শাহিনের বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ২ ওভার, ৩১ রান দিয়ে ১ উইকেট।

প্রথম ইনিংসের শেষ ওভারে যদিও শাহিন ভারতের ব্যাটার অক্ষর প্যাটেলের উইকেট নেন। তবুও গোটা ম্যাচ জুড়েই তাঁকে একেবারেই ছন্দহীন দেখিয়েছে।

লাইন ও লেংথে নিয়ন্ত্রণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাকিস্তান চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। এই ম্যাচে পাকিস্তানের একমাত্র পেসার হিসেবে খেলেন শাহিন, বাকিটা সময় স্পিন বোলারদের উপরই ভরসা রাখে দল।

তাঁর প্রথম ওভারেই আসে ১৫ রান, যা ম্যাচের শুরুতেই অভিষেকের উইকেটের পরেও ভারতকে ভরসা জোগায় এবং শাহিনের ওভারেই সেট হয়ে যায় ঈশান কিষাণ। তাঁর ইনিংসই বড় তফাৎ গড়ে দেয় ম্যাচে।

উল্লেখ্য, শাহিনের আগের ওভারেই অধিনায়ক সালমান আঘা আউট করেছিলেন ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মাকে। শাহিনের ওভারেই আক্রমণে যান ঈশান কিশান।

শর্ট অফ লেংথ বল স্কোয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন তিনি। তিলক ভার্মার বিরুদ্ধে বল করতে গিয়ে লাইন ও লেংথে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে শাহিনের।

কখনও ব্যাক–অফ–লেংথ কাটার, কখনও অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথ বল, কোনও ডেলিভারিই ব্যাটারকে সমস্যায় ফেলতে পারেনি। গতির তারতম্য ও সুইং আনার চেষ্টা করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে ভারতীয় ব্যাটাররাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ভারত।

ইনিংসের শেষ ওভারেও পরিস্থিতি বদলাতে ব্যর্থ হন শাহিন। শিবম দুবে স্লটের মধ্যে পাওয়া স্লোয়ার বল চার মারেন। এরপর রিঙ্কু সিং ইয়র্কারকে হাফ ভলি বানিয়ে মিড উইকেটের উপর দিয়ে লম্বা ছক্কা মারেন শাহিনকে।

আরেকটি স্লোয়ার বলে চার হাঁকান। শেষ পর্যন্ত ডিপ মিড উইকেটে অক্ষর প্যাটেল ক্যাচ দিয়ে বসলে উইকেট নিয়ে কিছুটা সান্ত্বনা পান শাহিন। এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় পাকিস্তানের এই পেসারকে।

কেউ তাঁকে ‘ভারতের দ্বাদশ খেলোয়াড়’ বলে বিদ্রুপ করেন, আবার কেউ মজা করে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলেও আক্রমণ করেন। অনেক সমর্থকের মতে, শাহিন বর্তমানে সম্পূর্ণ ফর্মের বাইরে রয়েছেন এবং ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর বোলিং ছিল অত্যন্ত নিষ্প্রভ।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন পারফরম্যান্স যে পাকিস্তান শিবিরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই—এমনটাই মত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের।