আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের কাছে লজ্জাজনক হার। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে ওঠার লড়াই ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের জন্য।

রবিবার কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ৬১ রানে হেরে সুপার এইটে ওঠার জন্য বড়সড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। অধিনায়ক সলমন আঘার দলের এই পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে আগেভাগেই ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে পাকিস্তানের।

এই হারের ফলে গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের অবস্থান কার্যত সঙ্কটজনক। বুধবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে শেষ গ্রুপ ম্যাচে নামিবিয়াকে হারাতে না পারলে নিশ্চিতভাবেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে পাকিস্তানকে।

এদিন শুধু হারই নয়, ভারতের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানের নেট রান রেটেও। ম্যাচের আগে যেখানে তাদের নেট রান রেট ছিল +০.৯৩২, এদিন তা সোজা নেমে এসেছে -০.৪০৩-এ।

এর ফলে নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে পাকিস্তান। তাদের ওপরে উঠে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যাদের নেট রান রেট বর্তমানে +০.৭৮৭। এখন যদি পাকিস্তান নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও হেরে যায়, তাহলে সুপার এইটে উঠে যাবে যুক্তরাষ্ট্রই।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালেও পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছিল মার্কিন দল। ফলে, ভারতের কাছে হেরে এখন যথেষ্ট চাপে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান তুলল ভারত।

আর সেই রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান থেমে গেল ১১৪ রানে। ভারত-পাক ম্যাচে নেই আগের মতো বারুদ। এখন একপেশে ম্যাচ হয়। দিনের শেষে ভারতের জয় হয় দস্তুর।

এবার নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বৈরথের ফলাফল ৮-১। ম্যাচ জিতে ভারত পৌঁছে গেল সুপার এইটে। ঈশান কিষান ব্যাট হাতে শুরু থেকে ঝড় তুললেন। সেই ঝড়ে একপ্রকার উড়েই গিয়েছিল পাকিস্তান।

বাকি কাজ করলেন ভারতের বোলাররা। হার্দিক, বুমরাহ, অক্ষর, বরুণের দাপটে পাকিস্তান ১৮ ওভারেই শেষ হয়ে গেল। ৬১ রানে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। ঈশান ফেরার পরে ম্যাচের দখল নিতে চেয়েছিল পাকিস্তান।

ভারতের রান তোলার গতিতে রাশও পড়ে। কিন্তু ১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং। সাহিবজাদা ফারহান (০), সাইম আয়ুব (৬), সলমন আলি আঘা (৪), বাবর আজম (৫) এলেন আর গেলেন।

চতুর্থ বল থেকে উইকেট পড়া শুরু হল পাকিস্তানের। হার্দিক পাণ্ডিয়া শুরু করেন। বুমরাহ নতুন বল হাতেই ফেরালেন সাইম আয়ুব ও সলমন আঘাকে। উসমান খান কেবল লড়লেন কিছুটা।

ম্যাচ অনেক আগেই পাকিস্তানের সাজঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। মিসবা উল হক বলছিলেন, উসমান খান বড় রান করতে পারেন। কিন্তু অক্ষর প্যাটেলের বল অন্ধের মতো এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে নিজের উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন।

সেই সঙ্গে বিপন্ন করলেন পাকিস্তানকেও। বাকিটা কেবল ছিল সময়ের অপেক্ষা। উসমান তারিককে নিয়ে জোর চর্চা চলছিল। সেই তিনি বল করতে এলেন দশম ওভারে।

প্রথম বলেই চার মারলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ভারতের অনুশীলনে উসমান তারিকের মতো থেমে থেমে বল করতে দেখা গিয়েছিল সূর্যকুমার যাদবকে।

পাকিস্তানের রহস্য স্পিনারকে খেলার প্রস্তুতি নিয়েই মহারণে নেমেছিল ভারত। উসমান তারিক কোনও সমস্যাই তৈরি করতে পারেননি।