আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কলম্বোতে নামবে টিম ইন্ডিয়া। বিশ্বকাপের আগে ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে ভারতের অবস্থান একেবারেই বদলাচ্ছে না।
টুর্নামেন্টের আগে অধিনায়কদের বৈঠকে কথা বলতে গিয়ে সূর্যকুমার বলেন, পাকিস্তান যদি গ্রুপ স্টেজে ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামতেও অস্বীকার করে, তবুও ভারত নির্ধারিত সূচি মেনেই কলম্বো যাবে।
পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই সেদিন মাঠে উপস্থিত থাকবেন ক্রিকেটাররা। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির দায় ভারতের নয়। সূর্যকুমার বলেন, ‘আমাদের মানসিকতা একদম পরিষ্কার। আমরা কখনও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে না বলিনি। ওরাই খেলতে অস্বীকার করেছে। আমাদের ফ্লাইট বুক করা আছে, আমরা কলম্বো যাচ্ছি। আমাদের সূচি প্রস্তুত। সবার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তারপর কানাডা, এরপর কলম্বো।’
এর আগে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে জানা গিয়েছিল, ভারত আইসিসির সমস্ত নিয়ম মেনেই টুর্নামেন্টের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে নামবে এর মধ্যে রয়েছে ভেন্যুতে উপস্থিত থাকা, অনুশীলন ও মিডিয়া কমিটমেন্টসহ ম্যাচের আগের সব দায়িত্ব পালন করা এবং পাকিস্তান দল মাঠে না নামলে ম্যাচ রেফারির নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করা।
সে ক্ষেত্রে ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য পরিত্যক্ত (ফরফিট) ঘোষণা হতে পারে। এদিকে পাকিস্তান সরকার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
তবে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাঠে নামবে না। গ্রুপ পর্বে ভারতের মোট চারটি ম্যাচ রয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে ভারত।
১২ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে নামিবিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। গ্রুপ পর্বের শেষে প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুটি দল সুপার এইট পর্বে উঠবে।
সেখানে আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষে থাকা দলগুলি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। ভারত ও পাকিস্তান দু’দলই যদি পরবর্তী পর্বে ওঠে, তাহলে ফাইনালে ফের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান খেলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়, যা গোটা টুর্নামেন্টে বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা বলছেন, ''বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই। পাকিস্তানের প্রতি তাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ। এটা দুঃখজনক যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেই।''
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সূত্র মারফত জানানো হয়েছে, ''পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বোর্ড ক্রিকেট ও রাজনীতিকে মিশিয়ে ফেলছে। ভারত সরকার বারংবার বলে আসছে, নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না বাংলাদেশের। তবুও বাংলাদেশ দল ভারতের মাটিতে খেলতে এল না। পাকিস্তানও এখন অযৌক্তিক কথা বলছে। আইসিসি ইভেন্টে ভারত ও পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলবে, এমনটাই তো স্থির হয়েছিল। ম্যাচ বয়কট করা শয়তানি ছাড়া আর কিছু নয়।''
শাস্তির খাড়া থেকে বাঁচতে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। 'ফোর্স মেজর' ক্লজের প্রয়োগ করতে চলেছে পাকিস্তান। তাঁদের দাবি, 'অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি' তে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান সরকার। এখনও ভারত ম্যাচ বয়কটের কারণ জানানো হয়নি। একটি সূত্রের খবর, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড দাবি করবে, এটা ভিন্ন পরিস্থিতি। ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার কোনও যথাযথ কারণ নেই। তাই 'ফোর্স মেজর' প্রয়োগ করা ছাড়া কোনও রাস্তা নেই পাকিস্তানের সামনে।
