আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে খেলবে স্কটল্যান্ড। হঠাৎ করে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যাওয়ায় কী বলছে তারা?
নিরাপত্তা আশঙ্কায় ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে বাংলাদেশকে তার গুণাগার দিতে হয়েছে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন।
স্কটল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ান প্রধান নির্বাহী টম মুডি বলেছেন, ''আমরা এভাবে বিশ্বকাপ খেলতে চাইনি। বিশ্বকাপ দলের সুযোগ পাওয়ার একটি যোগ্যতা প্রক্রিয়া আছে, নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলাম।''
মুডির সংযোজন, ''কেউই আমাদের মতো করে যোগ্যতা অর্জন করতে, অংশগ্রহণ করতে বা বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ পেতে চায় না। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে নেই, ওদের কষ্ট অনুভব করছি।''
এদিকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না থাকায় চতুর্দিকে চলছে চর্চা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। তার ফলে পরিস্থিতি আবার অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। বাংলাদেশ ছেড়ে সব আলোচনার কেন্দ্রে পাকিস্তান।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির অত্যধিক হস্তক্ষেপ ছিল বলে মনে করেন বিসিসিআই-এর কেউ কেউ।
এর মধ্যে রয়েছেন বিসিসিআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লও। বাংলাদেশকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছেন নকভি। এমনটাই ধারণা রাজীব শুক্লর।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে ছেঁটে ফেলার পরে নকভিকে বলতে শোনা গিয়েছিল, পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের পথে। আইসিসি-র দ্বিচারিতার কথা উল্লেখ করেন নকভি। আরও জানান, পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পাকিস্তান আদৌ বিশ্বকাপ খেলবে কিনা।
পিসিবি বলেছিল বাংলাদেশের জন্য আইসিসি হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করতে পারে। ঠিক পাকিস্তানের জন্য যেমন হাইব্রিড মডেল রয়েছে, তেমনই বাংলাদেশের জন্য করা হোক।
রাজীব শুক্ল বলেন, ''কোনও কারণ ছাড়াই পাকিস্তান এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে এবং বাংলাদেশকে উসকে দিয়েছে...সবাই জানে যে পাকিস্তান বাংলাদেশিদের উপর কতটা বর্বরতা করেছে, এবং এখন তারা তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে...।", শুক্ল আরও বলেন। "আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ খেলুক এবং আমরা পূর্ণ নিরাপত্তারও আশ্বাস দিয়েছিলাম, কিন্তু যেহেতু তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই শেষ মুহূর্তে পুরো সূচি পরিবর্তন করা খুব কঠিন। এই কারণেই স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়।''
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না নেওয়ার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদিও ক্ষুব্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় আফ্রিদি লিখেছেন, ''বাংলাদেশে ও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলা একজন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি-র আচরণে আমি অত্যন্ত হতাশ হয়েছি। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেনে নিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তারা মানল না।''
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে যায়নি ভারত। আইসিসি ভারতের দাবি মেনে দুবাইয়ে ভারতের ম্যাচ আয়োজন করে। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করেন আফ্রিদি। পাকিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডার আরও লেখেন, নিয়ম সর্বক্ষেত্রেই একই হওয়া দরকার। আইসিসি-র উচিত সম্পর্ক গড়া, সম্পর্ক ভাঙা নয়।
