আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে অপেক্ষার অবসান। দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রশ্ন উঠছিল, পিভি সিন্ধু কি আবারও বিশ্বের সেরা মঞ্চে নিজের পুরনো ছন্দ ফিরে পাবেন? একের পর এক চোট, আধুনিক ব্যাডমিন্টনের দ্রুত পরিবর্তিত নিয়মকানুন এবং ২০২৪ সালের পর থেকে খেতাবহীন - সব মিলিয়ে ভারতের দু'বারের অলিম্পিক পদকজয়ী তারকাকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংশয়। তবে রবিবার টোকিও মেট্রোপলিটন জিমনেশিয়ামে সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিলেন সিন্ধু। অসাধারণ শক্তি, নিখুঁত কৌশল এবং অদম্য মানসিক দৃঢ়তার প্রদর্শনে ভারতের ৩১ বছরের হায়দরাবাদি জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-১৭ গেমে হারিয়ে প্রথমবার জাপান ওপেন জিতলেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের প্রথম সুপার ৭৫০ খেতাবই জিতলেন না, ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় হিসেবেও জাপান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হলেন।
২০২৪ সালে সৈয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনাল জেতার পর এটাই সিন্ধুর প্রথম খেতাব। পাশাপাশি ২০১৯ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য। এদিন প্রথম গেম থেকেই ধারালো ক্রস-কোর্ট ড্রপ এবং নিখুঁত স্ম্যাশের মিশেলে ইয়ামাগুচির ছন্দ ভেঙে দেন সিন্ধু। শুরু থেকে শেষপর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে টানা কয়েকটি পয়েন্ট জিতে ২১-১৭ ব্যবধানে প্রথম গেম নিজের দখলে নেন ভারতীয় তারকা।
প্রথম গেম জয়ের পর দ্বিতীয় গেমেও আগ্রাসী মনোভাব বজায় রাখেন সিন্ধু। তাঁর আক্রমণাত্মক খেলায় সাধারণত শান্ত এবং আত্মবিশ্বাসী ইয়ামাগুচিকে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখায়। একাধিক আনফোর্সড এরর করেন বিশ্বের তিন নম্বর শাটলার। শুধু আক্রমণ নয়, এদিন রক্ষণেও দুর্দান্ত ছিলেন সিন্ধু। ইয়ামাগুচির দ্রুত নেট প্লে বারবার আগেভাগেই বুঝে নিয়ে পাল্টা চাপ তৈরি করেন। ম্যাচের শেষদিকে টোকিওর দর্শকদের সমর্থনে ইয়ামাগুচি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সিন্ধু এক মুহূর্তের জন্যও বিচলিত হননি। শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সে দ্বিতীয় গেমও ২১-১৭ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়েন ভারতীয় তারকা। ফিরিয়ে আনেন ২০১৯ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্মৃতি। বিশ্বের তিন নম্বর শাটলারকে তাঁরই ঘরের কোর্টে হারিয়ে পিভি সিন্ধু আরও একবার ব্যাডমিন্টন বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন, তিনি আবারও সেরাদের লড়াইয়ে ফিরে এসেছেন।
















