জল বাঁচাতে মূত্র পরিশোধন, কনকনে ঠান্ডা আটকাতে সূর্যের তাপ সংরক্ষণ, সোনাম ওয়াংচুকের লাদাখের বাড়িও বিশ্বের কাছে বিস্ময়
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৯ জুলাই ২০২৬ ১৯ : ২৫
শেয়ার করুন
1
17
'লাদাখের ফুনসুখ ওয়াংড়ু' নামে পরিচিত পরিবেশবিদ ও উদ্ভাবক এবং সমাজ সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়ম অনৈতিক বিষয় প্রতিবাদ করে অনশন করায় এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তিনি।
2
17
বাস্তবেও সোনাম ওয়াংচুক ব্যতিক্রম৷ তাই নিজের বাড়ির জন্য কংক্রিট নয়, ভরসা করেছেন প্রকৃতিকে৷ মাটি, সূর্যের আলো আর বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান। লাদাখের বাড়ি প্রকৃতি আর প্রযুক্তির মিশেলে অভিনব নির্মাণ৷
3
17
সোনাম ওয়াংচুকের হিমালয়ের এই বাড়ি তৈরি হয়েছে প্রায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে। যেখানে কংক্রিটের বদলে ব্যবহার হয়েছে মাটি, পাথর ও কাঠ।
4
17
আর ঘর গরম রাখতে ভরসা করা হয়েছে শুধুই সূর্যের আলো ও বৈজ্ঞানিক নকশার উপর। লাদাখের তীব্র শীতে তাপমাত্রা অনেক সময় মাইনাস ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়।
5
17
এমন আবহাওয়ায়ও এই বাড়ির ভিতর আরামদায়ক উষ্ণতা বজায় থাকে। এর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে 'প্যাসিভ সোলার আর্কিটেকচার'-এ।
6
17
বাড়ির নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দিনের বেলায় বড় কাচের জানালা দিয়ে সূর্যের তাপ ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে।
7
17
মাটির মোটা দেওয়াল সূর্যের তাপ দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখে। ফলে রাতে আলাদা হিটার বা অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন খুব কম পড়ে।
8
17
সোনাম ওয়াংচুক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, লাদাখের তীব্র ঠান্ডাতেও তাঁর বাড়িতে রাতের তাপমাত্রা থাকে ১৮-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
9
17
বাড়ির দেওয়াল তৈরি হয়েছে মাটি, পাথর ও কাঠ দিয়ে। কংক্রিটের পরিবর্তে স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করায় নির্মাণের কার্বন নিঃসরণও অনেক কম।
10
17
প্রাকৃতিক উপকরণের বাড়ি বলে আধুনিক বাড়ির মতো আরামদায়ক নয় এমনটা ভাবার কারণ নেই৷ বেডরুমের সঙ্গে অ্যাটাচ বাথরুম, মডিউলার কিচেন, ডাইনিংয়ে কাঠের আসবাব সবই সুসজ্জিত৷
11
17
বাথরুমের কমোডে ফ্লাশ নেই কারণ এই পদ্ধতিতে অতিরিক্ত জল খরচ হয়৷ তার পরিবর্তে আছে মূত্র আলাদা করার এবং গন্ধ দূর করার বিশেষ পদ্ধতি যা জলকে শুদ্ধ করে অন্য কাজে লাগায় এবং জলের অপচয় বন্ধ করে৷
12
17
একই সঙ্গে এই ধরনের বাড়ি পরিবেশের সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং ভূমিকম্পপ্রবণ পাহাড়ি এলাকায়ও তুলনামূলকভাবে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
13
17
শুধু নির্মাণসামগ্রী নয়, বাড়ির প্রতিটি অংশেই রয়েছে পরিবেশবান্ধব ভাবনা। প্রাকৃতিক আলো সর্বাধিক ব্যবহার করার জন্য ঘরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন হয় না।
14
17
পাশাপাশি তাপ সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা থাকায় জ্বালানির ব্যবহারও অনেক কমে যায়।
সোনম ওয়াংচুকের এই ভাবনা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়।
15
17
লাদাখে তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাকেন্দ্র SECMOL-এর একাধিক ভবনও একই প্যাসিভ সোলার প্রযুক্তিতে নির্মিত। সেখানে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তি এবং প্রাকৃতিক নির্মাণশৈলী ব্যবহার করে বছরের পর বছর শক্তি সাশ্রয় করা হচ্ছে।
16
17
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে সোনম ওয়াংচুকের বাড়ি ভবিষ্যতের টেকসই স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
17
17
স্থানীয় উপকরণ, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই বাড়ি দেখিয়ে দেয়, আধুনিক জীবনযাপন মানেই কংক্রিটের উপর নির্ভরতা নয়। বরং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বাড়িও হতে পারে আরামদায়ক, শক্তি-সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এমন ভাবনাই আজ বিশ্বজুড়ে 'গ্রিন আর্কিটেকচার'-এর অন্যতম অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।