আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের ভাগ্য সেদেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তরে নির্ধারিত হতে চলেছে। সূত্রের মাধ্যমে সিএনএন-নিউজ১৮ জানতে পেরেছে যে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং ফেডারেল মন্ত্রিসভার আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের বিষয়টি এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। যদিও পিসিবি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে আলোচনা করছে, তবে পিসিবি চেয়ারম্যান এবং পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সহ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি শরিফের হাতেই থাকছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত আইসিসির অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নাকভি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একটি শীর্ষ সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, "বিস্তারিত আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।"

পাকিস্তান ভারতের ম্যাচটি বয়কট করার কথা ভাবছে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর লাহোরে আইসিসি এবং পিসিবি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি বৈঠক করেন। পিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রবিবার পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজার সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রগুলো প্রকাশ করেছে যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হওয়ার জন্য পিসিবি আইসিসির সামনে কয়েকটি শর্ত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে আইসিসির রাজস্বের বর্ধিত অংশ, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট পুনরুদ্ধার, আইসিসি ইভেন্টের জন্য হাইব্রিড হোস্টিং মডেলের ধারাবাহিকতা এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণ।

জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন পিসিবি কর্মকর্তা কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে খেলার পক্ষে থাকলেও, নাকভি ম্যাচটি বয়কটেই অনড়।

পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচটি এড়াতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে তাদের চুক্তিতে থাকা 'ফোর্স ম্যাজিউর' ধারাটি প্রয়োগের বিকল্প খতিয়ে দেখেছিল। এই ধারাটি একটি আইনি সুরক্ষা ভালভ হিসাবে কাজ করে। এই ধারা ব্যবহার করে আইসিসি-র সদস্য কোনও ক্রিকেট খেলিয়ে সদস্য দেশ ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে (যেমন- যুদ্ধ, সন্ত্রাসী হুমকি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সরকার কর্তৃক জারি করা বাধ্যতামূলক নির্দেশ) চুক্তির বাধ্যবাধকতা স্থগিত বা বাতিল করার অনুমতি দেয়। 

তবে, আইসিসি পাল্টা যুক্তি দিতে পারে যে, একটি একক, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে সরে আসাটা এমপিএ-এর ধারা ৫.৭.১-এ বর্ণিত শর্তহীন অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা এও উল্লেখ করতে পারে যে, পাকিস্তানের ম্যাচগুলো ইতিমধ্যেই একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার কথা নির্ধারিত রয়েছে। যা একটি নির্দিষ্ট ম্যাচ থেকে সরে আসার যৌক্তিকতাকে দুর্বল করতে পারে।

আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চললেও, বিষয়টি এখন ক্রিকেটের বিবেচনার বাইরে চলে গিয়েছে এবং রাজনৈতিক অনুমোদনকে অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শরিফ, ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৃহত্তর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।