আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলের পরের মরশুমে তিন অধিনায়কের ভবিষ্যৎ ঘিরে রয়েছে অনিশ্চয়তা। চলতি মরশুমের শেষে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে তাঁদের নিয়ে। 

চলতি আইপিএল মরশুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জেরে তিন অধিনায়কের ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। 

সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, মরশুম শেষের পর নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এই তালিকায় রয়েছেন অক্ষর প্যাটেল, অজিঙ্ক রাহানে এবং ঋষভ পন্থ। 

তিন জনই টানা দু'টি মরশুমে নিজেদের দলকে প্লে-অফে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যেই লখনউ সুপার জায়ান্টস  আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে গিয়েছে। 

ফলে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন দলের অধিনায়ক পন্থ। অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং দিল্লি ক্যাপিটালসেরও প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ। 

অক্ষরের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাট এবং বল, এই দুই বিভাগেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি অক্ষর। ন'ইনিংসে মাত্র ১০০ রান করেছেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ১১২.৫০। এর মধ্যে এক ইনিংসেই এসেছে ৫৬ রান। বাকি আট ইনিংসে মোট সংগ্রহ মাত্র ৪৪। 

বল হাতেও খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি অক্ষর। ১২ ম্যাচে মাত্র ৩৬ ওভার বল করে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে একাধিক ম্যাচে নিজেকে কম ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানার পালাবদলের কারণেও অক্ষরের নেতৃত্ব অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। আগামী মরসুমে ক্রিকেট পরিচালনার দায়িত্ব যাবে জেএসডব্লিউ গোষ্ঠীর হাতে। ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, দলের কোচিং স্টাফও বদলে যেতে পারে  

দলের নির্বাচন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। তরুণ ওপেনার অভিষেক পোড়েলকে নিয়মিত সুযোগ না দেওয়া, অলরাউন্ডার মাধব তিওয়ারিকে ব্যবহার না করা কিংবা অনভিজ্ঞ সাহিল পারাখকে হঠাৎ চাপের মুখে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সমালোচিত হয়েছে।

পন্থের উপরও বাড়ছে চাপ। রেকর্ড অঙ্কে লখনউ সুপার জায়ান্টসে যোগ দেওয়া ঋষভ পন্থের উপর প্রত্যাশার চাপ ছিল প্রবল। কিন্তু ব্যাট হাতে তাঁর পারফরম্যান্সও হতাশাজনক। ১১ ম্যাচে ২৫১ রান করলেও স্ট্রাইক রেট মাত্র ১৩৮, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানদণ্ডে যথেষ্ট নয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, পুরো মরশুমে তিনি মাত্র ৯টি ছক্কা মারতে পেরেছেন। অধিনায়কত্বের চাপ তাঁর স্বাভাবিক খেলাকে প্রভাবিত করছে বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল।

দলের একাধিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অর্শিন কুলকার্নিকে ওপেনিংয়ে পাঠানো, হিম্মত সিংকে বারবার সুযোগ দেওয়া কিংবা আয়ুষ বাদোনিকে টপ অর্ডারে ব্যবহার, এই সব সিদ্ধান্ত দলের সমর্থকদেরও বিস্মিত করেছে।

যদিও নিকোলাস পুরান এবং আইডেন মার্করামের খারাপ ফর্ম দলকে বড় ধাক্কা দিয়েছে, তবুও পন্থের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় কৌশলগত পরিণতি দেখা যায়নি বলেই মত অনেকের।

রাহানের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এবারের টুর্নামেন্টে কেকেআর বিপন্ন। নাইটদের অধিনায়ক হিসেবে অজিঙ্ক রাহানের নিয়োগের শুরু থেকেই ছিল বিকল্পের অভাবের ফল বলে মনে করা হচ্ছিল। প্রাক্তন মুম্বই সতীর্থ অভিষেক নায়ার কোচ হওয়ায় তাঁর দায়িত্ব পাওয়া সহজ হয়েছিল।

তবে মাঠে রাহানে এবং তরুণ অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর ধীর ব্যাটিং কেকেআরের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। রঘুবংশী ৩৪০ রান করলেও স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৯-এর আশেপাশে, আর রাহানের ২৩৭ রান এসেছে মাত্র ১৩৩ স্ট্রাইক রেটে।

১১ ম্যাচে দু'জনে মিলিয়ে মাত্র ২৫টি ছক্কা মারেন। ফলে পাওয়ারপ্লে এবং মাঝের ওভারে রান তোলার গতি বারবার কমে যায়।

মরশুমের শুরুতে নিজের স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনার জবাবে রাহানে বলেছিলেন, ''অনেকে হিংসা করেন।'' তবে ৩৭ বছর বয়সে টি-টোয়েন্টির দ্রুত বদলে যাওয়া চাহিদার সঙ্গে তিনি আর তাল মেলাতে পারছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

ক্রিকেট মহলের ধারণা, অক্ষর এবং পন্থ এখনও খেলোয়াড় হিসেবে চাহিদায় থাকবেন। কিন্তু রাহানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় সবচেয়ে বেশি। আগামী মিনি নিলামে তাঁকে নিয়ে কোনও দল আগ্রহ দেখাবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা।