আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বছরের এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়েছিল।
বিশেষ করে ম্যাচের আগে ও পরে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন না হওয়ার ঘটনা বড় বিতর্ক তৈরি করেছিল। এবার সেই ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ নিয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও মারফত আঘা জানান, টসের ঠিক আগে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে কোনও করমর্দন হবে না। আঘার কথায়, ‘টসের আগে প্রেস কনফারেন্স ছিল, ট্রফি ফটোশুটও হয়েছিল। তখন করমর্দন হয়েছিল। আমি টসে যাওয়ার সময় স্বাভাবিকই ছিলাম। জানতাম পরিস্থিতি একটু অন্যরকম হতে পারে, কিন্তু হ্যান্ডশেক হবে না, সেটা জানতাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমাদের মিডিয়া ম্যানেজারের সঙ্গে টসে যাচ্ছিলাম। তখন ম্যাচ রেফারি আমাকে আলাদা ডেকে বললেন, এভাবেই হবে, কোনও হ্যান্ডশেক হবে না। আমি বলেছিলাম, সমস্যা নেই, আমিও খুব আগ্রহী নই। তারপরই বুঝলাম কী হতে চলেছে।’
ম্যাচে ভারত সহজেই হারিয়েছিল পাকিস্তানকে। তবে ম্যাচ শেষে করমর্দন হবে বলে আশা করেছিলেন আঘা। তিনি জানান, পাকিস্তান দলের সদস্যদের নিয়ে ভারতীয় ড্রেসিংরুমের দিকে গিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু সেখানে গিয়েও কোনও সৌজন্য বিনিময় হয়নি। আঘার কথায়, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমরা ওদের প্যাভিলিয়নের দিকে গিয়েছিলাম হ্যান্ডশেক করার জন্য। কিন্তু তখনও তারা করমর্দন করেনি।’
উল্লেখ্য ভারত এবং পাকিস্তানের হ্যান্ডশেক না করার ঘটনাকে ঘিরে স্পোর্টিং স্পিরিট বনাম দেশের প্রতি কর্তব্য, দু’দিক নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষিতে ভারতীয় শিবিরের অবস্থান ছিল স্পষ্ট।
তবে আঘার মতে, এমন আচরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা ঠিক নয়। আমরা যখন দেশের প্রতিনিধিত্ব করি, তখন ছোটরা আমাদের দেখে শেখে। পরের দিন যদি কোনও ক্লাব ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে তার দায় আমাদের ওপরও পড়ে। রোল মডেল হিসেবে এটা ভাল বার্তা নয়।’
উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তান দল যতবার মুখোমুখি হয়েছে কোনওবারই করমর্দন করেননি ক্রিকেটাররা। এমনকী, ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালেও দুই দল মুখোমুখি হলেও সৌজন্য বিনিময়ের ছবি দেখা যায়নি।















