মোহনবাগান - ০

ইন্টার কাশী - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোয়ার পর কলকাতা। জায়গা বদলাল, প্রতিপক্ষ বদলাল, কিন্তু মোহনবাগানের খেলা বদলাল না। অত্যন্ত ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবলে লিগ টেবিলের শীর্ষে চলে যাওয়ার সুযোগ ছিল সবুজ মেরুনের কাছে। কিন্তু অভিজিৎ মণ্ডলের ইন্টার কাশীর কাছে মোহনবাগান আটকে গেল এদিন। হাবাস না থাকায় যাঁরা ভেবেছিলেন এই ম্যাচ মোহনবাগানের কাছে জলের মতো সহজ হবে, ইন্টার কাশীর ফুটবলাররা 

এদিন তাঁদের ভুল প্রমাণ করার জন্য জান লড়িয়ে দিলেন। মোহনবাগানের খেলায় সেই ধারটাই খুঁজে পাওয়া গেল না। যেটা দেখে মনে হবে যে এই আক্রমণ থেকে গোল হতে পারে। ক্রস, কর্নার, সেটপিস থেকেও গোলের সুযোগ তৈরি হল না। বরং, বলা ভাল হার বাঁচাল মোহনবাগান। ইন্টার কাশী যে কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিল সেখান থেকে একটা গোল হয়ে গেলে মোহনবাগানের কালঘাম ছুটে যেত সমতা ফেরাতে। 

এদিন জেমি, লিস্টন, শুভাশিস, থাপা, অ্যালবার্তোকে ছাড়া প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন লোবেরা। কিন্তু তাতে লাভ বিশেষ হল না। খেলার শুরু থেকেই অত্যন্ত ম্যাড়মেড়ে ফুটবল। খেলার শুরুতে ৮ মিনিটের মাথায় সাহালের শট ছাড়া একটা সুযোগও তৈরি করতে পারেনি মোহনবাগান। তাও বক্সের ভিতর থেকে সেই শট ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। মোহনবাগান এদিন প্রথম অন টার্গেট শটই রাখে দ্বিতীয়ার্ধে। একে তো দলের গোলমেশিন ম্যাকলারেন বাইরে। দিমিত্রি, কামিংস, রবসন মিলে প্রথম ৪৫ মিনিটে একবারের জন্যও ইন্টার কাশীর ডিফেন্স ভাঙতে পারলেন না। 

অন্য দিকে, কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলে একাধিক বার বাগান ডিফেন্স ভেঙে দিয়েছিল ইন্টার কাশী। ১০ মিনিটের মাথায় ফাঁকা গোলে সুযোগ নষ্ট করেন মহম্মদ আসিফ। আলফ্রেড এবং নওরিস দুজনের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান খেলে বিট করেন মেহতাব সিংকে। সেখান থেকে ফাঁকায় বাড়ানো মাইনাস আসিফ বাইরে মারেন। নইলে প্রথমেই মোহনবাগান পিছিয়ে পড়ত। প্রথমার্ধের বাকি অংশে শুধুই স্কোয়ার পাস আর ব্যাকপাস দেখা গিয়েছে বাগান ফুটবলারদের থেকে। বিরতির পর রবসন আর কামিংসকে তুলে লোবেরা নামান লিস্টন আর ম্যাকলারেনকে। তাতে ছবিটা খানিক বদলায় বটে। মোহনবাগানের খেলায় কিছুটা ধার বাড়লেও গোল আসছিল না। ৫৭ মিনিটে রানাওয়াডেকে তুলে শুভাশিসকে নামান লোবেরা। 

কিন্তু ওই পরিবর্তনই সার। ৬৪ মিনিটে বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন পেত্রাতোস। তাঁর শট বারের পাশ থেকে বেরিয়ে যায়। ডার্বির আগে এদিন মোহনবাগানের যা পারফরম্যান্স তাতে লোবেরা যে খুব শান্তিতে থাকবেন সেটা একেবারেই বলা যাচ্ছে না। ৮৫ মিনিটে দিমিত্রির পাস থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জেমি। বল নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সামনে ছিলেন শুধু কাশী কিপার শুভম। ম্যাকার ছোট্ট টোকা আটকে দেন ইন্টার কাশী কিপার।