আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডামাডোলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। প্লেয়ারদের বেতন সমস্যা চলছিলই। ইনভেস্টরও নেই। ক্লাব বাঁচাতে এবার অভিনব পদক্ষেপ মহমেডান কর্তাদের। নওশাদ সিদ্দিকী-হুমায়ুন কবীরের দ্বারস্থ তাঁরা। অতীতে শেয়ার ছাড়া নিয়ে ইনভেস্টরদের সঙ্গে বিবাদ বাঁধে। একে একে সব স্পনসর এবং ইনভেস্টর ক্লাবের সঙ্গ ছাড়ে। কিন্তু ক্লাব চালাতে হিমসিম খাচ্ছে কর্তারা। শনিবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে ইনভেস্টরের আহ্বান জানানো হয়। সচিব রাজু আহমেদ বলেন, 'আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারছি কিছু লোক ইনভেস্টর নিয়ে আসতে চাইছে এবং ক্লাবকে সুষ্ঠভাবে চালানোর জন্য উদ্যোগ নিতে চাইছে। তাঁরা আরও ভালভাবে ক্লাবটাকে চালাতে চাইছে। আমাদের ট্রাস্টির তরফ থেকে নওশাদ সিদ্দিকীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ক্লাব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ট্রাস্টিদের বলেছি, ওদের তরফ থেকে উদ্যোগ নিতে। ওদের থেকে চিঠি নওশাদ সিদ্দিকীর কাছে গিয়েছে। দীপক সিংয়ের কাছেও গিয়েছে। যদি কেউ আগ্রহী হয়, আমরা তাঁদের স্বাগত জনাব। তাঁরা নিজেদের প্রস্তাব নিয়ে আসুক। তারপর আমরা এগোব।' 

সুপার কাপে মহামেডানের খেলা নিয়ে ডামাডোল তৈরি হয়েছিল। তারওপর ইনভেস্টর নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। তারমধ্যেই মহামেডান স্পোর্টিংকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেছিলেন, 'ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের পাশে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, সেভাবে মহমেডানের পাশে দাঁড়াননি। মহামেডান স্পোর্টিংকে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো ট্রিট করা হচ্ছে'। তিনি দাবি করেন যদি তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তিনি মহমেডানের ইনভেস্টরের ব্যবস্থা করবেন। এবার সেই পথেই হাঁটতে চাইছে মহমেডান কর্তারা। নওশাদ সিদ্দিকীর পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছে ক্লাব। ফুটবলারদের বেতন মেটানোর সামর্থ্য নেই। কলকাতা লিগে অবনমনের মুখ দেখতে হয়েছে মহমেডানকে। ঘরোয়া লিগে ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা অবনমনের মুখ দেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সমর্থকরা। আগামী বছর লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে আর খেলতে দেখা যাবে না কলকাতার তিন প্রধানের অন্যতমকে। আইএসএলেও জঘন্য পারফরম্যান্স। ১৩ ম্যাচের মধ্যে একটিতেও জেতেনি। মাত্র তিনটে ড্র করে। বাকি দশ ম্যাচে হার। টেবিলের লাস্টবয়। এবার একমাত্র দল হিসেবে জয়ের মুখ দেখেনি মহমেডান। তাঁদের ওপরে থাকা চেন্নাইও দুটো ম্যাচ জেতে। তাই অবশেষে এবার ক্লাবের হাল ধরতে মরিয়া কর্তারা।