আজকাল ওয়েবডেস্ক: কালো বলে কোনও মেয়ের বাবা মেয়ে দিতে চাইত না। ফের বিস্ফোরক ভারতের প্রাক্তন লেগস্পিনার লক্ষ্ণণ শিবরামকৃষ্ণাণ।
এটা ঘটনা, ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান স্পিনার বলা হত শিবরামকৃষ্ণানকে। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে পা রাখার পরেই বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য ক্রমাগত শুনতে হয়েছিল তাঁকে। একসময় গভীর অবসাদে চলে গিয়েছিলেন। অল্প বয়সেই নিয়মিত মদ্যপান শুরু করেছিলেন। কিন্তু শুধু অবসাদ নয় আরও একটি বিষয় তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছিল। আর সেই ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েছিলেন।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে সে কথাই জানিয়েছেন তিনি। এটা ঘটনা, মাত্র ১৭ বছরেই দেশের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। কিন্তু মদ্যপান তাঁর সুনাম যেমন কেড়ে নিয়েছিল। তেমনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার পরেও বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে পেতেও কষ্ট হয়েছিল তাঁর।
তিনি বলেছেন, ‘লোকজন খারাপ কথা ছড়াতে বেশি ভালবাসে। ১৬ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে আমাকে অনেকগুলো ট্যুর করতে হয়েছে। ওই বয়সে হোটেলে কেউ মদ পরিবেশন করে? আমি জীবনে কোনদিন মাদকদ্রব্য ছুঁইনি। তবে বিয়ার খেতাম। কিন্তু ভেবে দেখুন একজন ১৯ বছর বয়সীকে মদ্যপ বলা হচ্ছে!’
শিবরামকৃষ্ণান আরও বলেছেন, তাঁর বিয়ের জন্য মা–বাবা দেখাশোনা শুরু করেছিলেন। পাত্রীর জন্য বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছিল। যোগাযোগের জন্য বাড়ির বক্স নম্বরও দেওয়া হয়েছিল। দুই সপ্তাহ পর সেই বক্স থেকে দেখা গিয়েছিল একটিও আবেদনপত্র নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘একে কালো। তার উপর সুনাম এতটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে কেউ মেয়ে দিতে চায়নি।’
ভারতীয় ক্রিকেট থেকে তাঁর বিদায়টাও খুব খারাপভাবেই হয়েছিল। তাঁর কথায়, নির্বাচক নাকি তাঁকে বলেছিলেন, সংবাদমাধ্যমের সামনে বলতে তাঁর ফিটনেস সমস্যা রয়েছে। পারফরম্যান্স নয়। তাঁর কথায়, ‘১৯৮৭ বিশ্বকাপ শেষে তামিলনাড়ুর এক নির্বাচকের ফোন পাই। এরপরই আমাকে ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু আমি না বলে দিয়েছিলাম।’
১৯৮৭ সালেই তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়। এরপরই তিনি ধীরে ধীরে চলে আসেন ধারাভাষ্যে। তিনি বলেছেন, ‘একটা সময় এতটাই খারাপ লাগত যে আয়নার নিজের মুখ দেখতেও লজ্জা পেতাম। তখন থেকেই মদ্যপান করতে শুরু করি।’
এখন অবশ্য সেই ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন শিবরামকৃষ্ণান।
















