আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার সব রাজপথ আজ এসে মিশেছে ইডেন গার্ডেন্সে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা- নিউজিল্যান্ড। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত  নিল কিউয়িরা। পিচে ক্র্যাক রয়েছে। স্পিনাররা সাহায্য পাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ধরনের নক আউট ম্যাচে টস জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। রক্তের গতি বাড়িয়ে দেওয়া শেষ চারের লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ড শুরুতেই কিন্তু টস জিতে এগিয়ে থাকল। তবে ক্রিকেট তো মহান অনিশ্চয়তার খেলা। কখন কীভাবে যে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে যায় কে বলতে পারেন! 

নিউজিল্যান্ড দলে একটি পরিবর্তন এনেছে। জেমস নিশাম ফিরে এসেছেন। ডাগ আউটে বসছেন ইশ সোধি। অন্যদিকে প্রোটিয়া ব্রিগেডের ক্যাপ্টেন মার্করাম জানিয়েছেন, জ্যানসেন, কেশব মহারাজ ও রাবাদা ফিরে এসেছেন দলে। 

কিউয়ি অধিনায়ক স্যান্টনার বলেছেন, ''আমরা আগে বল করব। আগেরদিন পিচ ভাল ছিল। আমরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছি। আমরা ওদের চাপে ফেলার চেষ্টা করব। নিশাম ফিরে এসেছে।''

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক মার্করাম বলেছেন, ''প্রত্যেকের অবদান রয়েছে। আশা রাখি আমরা ভাল ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ডে রান তুলব। গত রাতে আমরা এখানে অনুশীলন করেছি। দলে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাবাদা, মার্কো জ্যানসেন ও কেশব মহারাজ ফিরে এসেছে দলে।''

আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক ফর্ম ও পারফরম্যান্সের নিরিখে বিচার করলে দক্ষিণ আফ্রিকাকেই ফেভারিট মনে করছেন ক্রিকেট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহল। 

চলতি মেগা টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকা এখনও পর্যন্ত প্রথম সাতটি ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। এখনও পর্যন্ত তারা অপরাজিত। 

অধিনায়ক মার্করামের  নেতৃত্বে এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে প্রোটিয়া ব্রিগেড। গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইট মিলিয়ে একমাত্র অপরাজিত দল তারাই। ‘চোকার্স’ বদনাম দূরে সরিয়ে রেখে খেতাব জয়ের লক্ষ্যেই যে দক্ষিণ আফ্রিকা মাঠে নামবে, তা বলাই বাহুল্য। 

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী। ক্যাপ্টেন মার্করাম ইতিমধ্যেই ২৬৮ রান করে ফেলেছেন। কুইন্টন ডি কক, ডেভাল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার ও ত্রিস্টান  স্টাবস—যে কোনও সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

বল হাতে পেস আক্রমণে বৈচিত্র এনেছেন লুঙ্গি এনগিডি, যাঁর স্লো অফ-কাটার ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। মাঝের ওভারে কেশব মহারাজ বড় ভরসা। রয়েছেন রাবাদার মতো বোলার। 

নকআউট পর্বে মানসিক চাপ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বাধা হতে পারে। অতীতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই চাপের জন্যই তারা ছিটকে গিয়েছে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা কে ভুলতে পারেন? নিউজিল্যান্ড অন্যদিকে ভাল নেট রান রেটের সুবাদে সেমিফাইনালের টিকিট জোগাড় করেছে। গ্রুপ পর্বে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গেলেও সেমিফাইনালে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। এই ম্যাচ তো তাদের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার ম্যাচও বটে। 

অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার-এর নেতৃত্বে অলরাউন্ডার নির্ভর দল নিউজিল্যান্ড। রাচীন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পাওয়ারপ্লেতে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন টিম সেইফার্ট। ফিল্ডিং দক্ষতাও কিউয়িদের বড় শক্তি। আলাদা করে বলা হচ্ছে ফিন অ্যালেনের কথা। 

চারটি সেমিফাইনালিস্ট দলের মধ্যে নিউজিল্যান্ড একমাত্র দল যারা দু'টি ম্যাচে হেরেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এখনও জয়হীন কিউয়িরা। পাঁচবারের দেখায় পাঁচবারই হার মেনেছে নিউজিল্যান্ড। আজ কিন্তু হিসেব বদলানোর সেমিফাইনাল। ইডেন গার্ডেন্স তৈরি। তৈরি দুই দল। ক্রিকেটের নন্দনকাননে বারুদে ঠাসা এক ম্যাচ। শেষ হাসি কে হাসে, সেটাই দেখার।