আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাতটা লখনউ সুপার জায়ান্টসের তারকা পেসার প্রিন্স যাদবের কাছে স্মরণীয় হয়ে রইল। একানা স্টেডিয়ামে আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর তারকা ব্যাটার

বিরাট কোহলিকে স্পেলের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করে দিলেন তিনি। কিং কোহলিকে বোল্ড করে ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন ২৪ বছরের এই স্পিডস্টার।

ম্যাচ শেষে কোহলির সঙ্গে তাঁর কথাবার্তার মুহূর্তও নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। ডিএলএস পদ্ধতিতে ন’রানে রোমাঞ্চকর জয়ের পর মাঠের ধারে লখনউয়ের বোলিং কোচ ভারত অরুণের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় বিরাট কোহলিকে।

সেই সময় প্রিন্স যাদবের কাঁধে হাত রেখে তাঁর সঙ্গে হাসিমুখে কথাও বলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। তরুণ পেসারের অসাধারণ স্পেলের প্রশংসাই করছিলেন বিরাট কোহিল, এমনটাই জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলও।

ম্যাচে কোহলির বিরুদ্ধে মাত্র দ্বিতীয় বলেই বাজিমাত করেন প্রিন্স। ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতির ইনসুইং ডেলিভারিটি আচমকা ভিতরে ঢুকে কোহলির অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয়।

বলের লাইন ও মুভমেন্ট বুঝতেই পারেননি কোহলি। মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় একানা স্টেডিয়াম। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর এটাই বিরাটের প্রথম আইপিএল ডাক। এছাড়া, রান তাড়া করতে নেমে শেষবার তিনি শূন্য রানে ফিরেছিলেন ২০১৭ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে।

সেই ম্যাচে মাত্র ৪৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল আরসিবি। বৃহস্পতিবার লখনউতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মিচেল মার্শের দুরন্ত ১১১ রানের ইনিংসে ভর করে ৩ উইকেটে ২০৯ রান তোলে লখনউ সুপার জায়ান্টস।

জবাবে লড়াই করেও ১৯ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৩ রানে থেমে যায় আরসিবি। ম্যাচ শেষে প্রিন্স যাদব জানান, বিরাট কোহলি নিজেই একসময় তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন কোথায় বল করতে হবে।

সেই পরামর্শই এদিন কাজে লাগিয়েছেন তিনি। প্রিন্স বলেন, ‘কোহলির উইকেট পেয়ে ভাল লেগেছে, তবে সবচেয়ে বেশি খুশি আমরা ম্যাচটা জিতেছি বলে। উইকেট পেয়ে যদি ম্যাচ হারতাম, তাহলে এতটা ভাল লাগত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবেই উইকেট আসুক, একজন বোলারের কাছে সেটা বিশেষ অনুভূতির। তবে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’ চলতি মরশুমে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন প্রিন্স যাদব।

এখনও পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৬টি উইকেট। পার্পল ক্যাপের দৌড়ে তিনি রয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার ও অংশুল কম্বোজের ঠিক পিছনে, যাঁদের দু’জনেরই উইকেট সংখ্যা ১৭।

নিজের উন্নতির পিছনে অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসার মহম্মদ সামির অবদানও স্বীকার করেছেন প্রিন্স। তাঁর কথায়, ‘নতুন বলে সামি ভাইয়ের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হল, কোনও বোলার বল করলে উনি মিড-অন বা মিড-অফে দাঁড়িয়ে থাকেন। এত অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার পাশে থাকলে আলাদা আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়।’ প্লে-অফ নিয়ে এখনই ভাবতে নারাজ লখনউয়ের এই তরুণ পেসার। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘আমরা আপাতত ম্যাচ ধরে এগোতে চাই।’