ইডেনে ফুটে উঠলেন মুকুল, জঘন্য ডেথ বোলিংয়ে লখনউয়ের বিরুদ্ধে হার কলকাতার

Mukul Chowdhury

আজকাল ওয়েবডেস্ক:

মুকুল চৌধুরী, এই একটা নামই কাফি। গোটা ইডেন যখন একপ্রকার বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছে সেই পরিস্থিতিতে একা হাতে খেলা ঘুরিয়ে দিলেন মুকুল। জিতিয়ে ফিরলেন লখনউ সুপার জায়ান্টসকে।

২৭ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত রইলেন মুকুল। ম্যাচটা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যখন মনে হচ্ছিল এদিন জয় নিয়েই ইডেন ছাড়বে কেকেআর। সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিলেন মুকুল।

শেষের দিকে উল্টোদিকে থাকা আবেশ খানকে মুকুল খেলতে দিলেন মাত্র তিন বল। নিজের ওপর পুরো আত্মবিশ্বাস রেখে শেষ তিন ওভারে একা হাতে ম্যাচ বের করলেন, যার প্রশংসা করলেন রাহানেও। স্বীকার করে নিলেন, মুকুলের ইনিংসটাই তফাৎ গড়ে দিয়েছে।

গত কয়েক ম্যাচের তুলনায় এদিন ইডেনের ম্যাচ ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ কঠিন ছিল। প্রথম ইনিংসেও কলকাতার ব্যাটাররা সমস্যায় পড়েছিলেন স্লোয়ার খেলতে গিয়ে। সেই স্লোয়ার এবং বাউন্সারকে অস্ত্র করেই পন্থ, পুরানদের প্যাভিলিয়নে ফেরালেন কেকেআর বোলাররা।

শুরুতে মার্করাম এবং মিচেল মার্শ ভালই শুরু করেছিলেন। একই ওভারে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে লখনউকে জোড়া ধাক্কা দেন বৈভব অরোরা। বৈভবের শর্ট বলে ছয় মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন মার্করাম(২২)।

একই ওভারে কিপার রঘুবংশীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিচেল মার্শ(১৫)। এদিন রান পাননি ফর্মে থাকা ঋষভ পন্থও(১০)। চলতি আইপিএলে এদিন প্রথম বল হাতে দেখা গেল ক্যাম গ্রিনকে। আর প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই পন্থের উইকেট তুলে নেন অজি অলরাউন্ডার।

লখনউয়ের হয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আয়ুষ বাদোনি এবং নিকোলাস পুরান। ক্যারিবিয়ান ব্যাটারকে বিপজ্জনক লাগলেও তাঁকে ফেরাতে বেশিক্ষণ লাগেনি কলকাতার। কার্তিক ত্যাগীর বলে প্যাভিলিয়নে 
ফেরেন পুরান(১৫)।

তবে অন্যদিকে থেকে আয়ুষ বাদোনি কাউন্টার অ্যাটাক জারি রেখেছিলেন। ম্যাচ যখন ক্রমশ চাপের দিকে সেই সময়েই সেট ব্যাটার বাদোনিকে ফেরান অনুকূল রায়। ৩৪ বলে ৫৪ করে ফেরেন দিল্লির ব্যাটার।

লোয়ার মিডল অর্ডারে আব্দুল সামাদও বেশিক্ষণ টেকেননি। অনুকূলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। তখন ইডেন বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছে রীতিমত।

সেখান থেকে ম্যাচ বের করলেন মুকুল। প্রথম ৮ বলে ২ রান করেন তিনি। পরের ১৫ বলে করলেন ৪৬ রান। সেখান থেকে অর্ধশতরান করলেন। জিতিয়ে ফিরলেন দলকে।

এদিন প্রথমে ব্যাট করে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে রানের লক্ষ্য দিয়েছিল কেকেআর। উইকেট না পেলেও দুর্দান্ত বল করলেন ইডেনের ঘরের ছেলে মহম্মদ সামি।

শেষের দিকে রভম্যান পাওয়েল এবং ক্যামেরন গ্রিন ব্যাটিংয়ে ভর করেই ১৮০ পেরোল কলকাতা। পাওয়েল জানালেন, এদিনের পিচ চেনা ইডেনের উইকেট নয়, বল গ্রিপ করায় ব্যাট করা বেশ কঠিন।

১০ ওভার পর্যন্ত ভাল জায়গায় থাকলেও তারপরের দিকে পরপর উইকেটই কিছুটা ব্যাকফুটে ফেলে দেয় কলকাতাকে। শেষের দিকে গ্রিন এবং পাওয়েলের ঝোড়ো ইনিংস ম্যাচে রাখল কলকাতাকে।