আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত আইপিএলেই তাঁর প্রতিভা সামনে এসেছিল। এই বছরের আইপিএলে তিনি একা হাতেই বোলারদের ধ্বংস করেছেন। অরেঞ্জ ক্যাপও এসেছে বৈভবের দখলেই।

গত এক বছরে অনুর্ধ্ব ১৯, অনুর্ধ্ব ১৭ ভারতীয় দলেও একাধিক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন তিনি। কিন্তু চলতি আইপিএলে তিনি বেধড়ক পিটিয়েছেন একাধিক বিশ্বমানের বোলারদের।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই গোটা ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছেন এই তরুণ ব্যাটার। নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইপিএল মরশুমেই বিরাট কোহলি, শুভমন গিল, সাই সুদর্শন এবং হেনরিখ ক্লাসেনের মতো তারকাদের পিছনে ফেলে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতে নিয়েছেন তিনি।

রবিবার আইপিএল ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে অরেঞ্জ ক্যাপ নিতে ওঠেন বৈভব। সেই সময়ই তাঁকে নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেন বিরাট কোহলি। প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রাক্তন তারকা এবি ডি’ভিলিয়ার্স সম্প্রচারকারী সংস্থা জিওস্টারের অনুষ্ঠানে সেই কথোপকথনের কথা প্রকাশ করেন।

ডি’ভিলিয়ার্স বলেন, ‘বৈভব যখন অরেঞ্জ ক্যাপ নিতে মঞ্চে উঠছিল, তখন বিরাট আমার দিকে তাকিয়ে বলছিল, ‘এবি, এই ছেলেটা সত্যিই স্পেশাল। ও খেলতে জানে।’ শুধু বৈভব নন, ফাইনালে বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়েরও ভূয়সী প্রশংসা করেন ডি’ভিলিয়ার্স।

ম্যাচে ৪২ বলে ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আরসিবিকে টানা দ্বিতীয় আইপিএল খেতাব জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন কোহলি। ডি’ভিলিয়ার্সের মতে, ফাইনালে গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক শুভমান গিলের কিছু কৌশলগত ভুলের সুযোগই কাজে লাগিয়েছেন কোহলি।

তিনি বলেন, ‘রান তাড়া করার সময় কোহলি ক্রিজে থাকলে তা পুরো ব্যাটিং লাইনআপকে অন্য মাত্রা দেয়। একদিকে রশিদ খান দুর্দান্ত বোলিং করছিল। গুজরাটের অন্য বোলাররাও ভাল ছন্দে ছিল। কিন্তু বিরাট জানে কীভাবে ইনিংস গড়তে হয়। কীভাবে রান তাড়া করে ম্যাচ জিততে হয় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ করে আসতে হয় সেটা বিরাটের থেকে ভাল আর কে জানে।’

প্রাক্তন প্রোটিয়া তারকার সংযোজন, ‘গুজরাট শুরুতে ওর লেগ সাইডে বেশ কিছু বল করেছিল। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটারকে যদি এভাবে শুরু করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে শাস্তি দিতেই পারে। একবার ছন্দ পেয়ে গেলে বিরাটকে থামানো কঠিন। এরপর ম্যাচটা কার্যত একমুখী হয়ে গিয়েছিল।’

একদিকে আইপিএলে বৈভব সূর্যবংশীর উত্থান, তাঁর একের পর এক বিস্ময় ইনিসং যেমন ক্রিকেটপ্রেমীদের বিস্মিত করেছে, তেমনই তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছেন খোদ বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তিও। সেটাই হয়তো ভারতীয় ক্রিকেটে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় আশার বার্তা।